বগুড়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী শিকলমুক্ত, চিকিৎসা করাবেন ইউএনও
jugantor
বগুড়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী শিকলমুক্ত, চিকিৎসা করাবেন ইউএনও

  বগুড়া ব্যুরো  

০২ জুলাই ২০১৮, ২২:৩৮:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী শিকলমুক্ত, চিকিৎসা করাবেন ইউএনও

সাত বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী (পাগল) হন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার দীঘি সাজাপুর গ্রামের রিকশাচালক হাসান ফকির (২৬)। দরিদ্র বাবা অনেক চিকিৎসা করেও তাকে সুস্থ করে তুলতে পারেননি। পাঁচ বছর আগে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে দাদা-দাদির আশ্রয়ে আছে। উপদ্রব থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যরা তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন।

সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন বাড়িতে গিয়ে তাকে শিকলমুক্ত করেন। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। উপজেলা পরিষদ থেকে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার দীঘি সাজাপুর গ্রামের আবদুল আজিজ ফকির জানান, নিজের টিনের ছাউনি দেয়া মাটির দুটি ঘর ছাড়া আর কিছু নেই। ছাগল ও ভেড়া লালনপালন করে সংসার চালান। তার সুস্থ ছেলে হাসান ফকির চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। অভাবের সংসারে হাল ধরতে বগুড়া শহরে রিকশা চালাত। ৯ বছর আগে তাকে বিয়ে করানো হয়েছে। ঘরে ৮ বছর বয়সী মেয়ে আছে।

স্থানীয় স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। হাসান প্রায় সাত বছর আগে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে পিকনিকে যায়। ফেরার পথে বাসের ছাদ থেকে পড়ে সে আহত হয়। এরপর থেকে অস্বাভাবিক আচরণ (পাগলামি) করতে থাকে।

তাকে বগুড়ার বিভিন্ন ডাক্তার ও পাবনার মানসিক হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হলেও ভালো হয়নি। বাড়ি থেকে বের হলে প্রতিবেশীরা তাকে ঢিল ছুড়ত, নানাভাবে বিরক্ত করত। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পায়ে শিকল দিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে যখন ভালো থাকত, তখন শিকল খুলে দেয়া হতো।

তার পাগলামোর কারণে পাঁচ বছর আগে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেছে। সংসারের অভাবের কারণে তাকে ভালো চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ নূহ জানান, তিনি এর আগে হাসানকে ছাগল দিয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন জানান, তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে হাসান ফকিরকে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার খবর পান। বিষয়টি খুবই অমানবিক হওয়ায় তিনি সোমবার দীঘি সাজাপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হাসানকে শিকলমুক্ত করেন।

তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে তার চিকিৎসার ব্যয়বহন করা হবে।

বগুড়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী শিকলমুক্ত, চিকিৎসা করাবেন ইউএনও

 বগুড়া ব্যুরো 
০২ জুলাই ২০১৮, ১০:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বগুড়ায় মানসিক প্রতিবন্ধী শিকলমুক্ত, চিকিৎসা করাবেন ইউএনও
ছবি: যুগান্তর

সাত বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী (পাগল) হন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার দীঘি সাজাপুর গ্রামের রিকশাচালক হাসান ফকির (২৬)। দরিদ্র বাবা অনেক চিকিৎসা করেও তাকে সুস্থ করে তুলতে পারেননি। পাঁচ বছর আগে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে দাদা-দাদির আশ্রয়ে আছে। উপদ্রব থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যরা তাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন।

সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন বাড়িতে গিয়ে তাকে শিকলমুক্ত করেন। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। উপজেলা পরিষদ থেকে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার দীঘি সাজাপুর গ্রামের আবদুল আজিজ ফকির জানান, নিজের টিনের ছাউনি দেয়া মাটির দুটি ঘর ছাড়া আর কিছু নেই। ছাগল ও ভেড়া লালনপালন করে সংসার চালান। তার সুস্থ ছেলে হাসান ফকির চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। অভাবের সংসারে হাল ধরতে বগুড়া শহরে রিকশা চালাত। ৯ বছর আগে তাকে বিয়ে করানো হয়েছে। ঘরে ৮ বছর বয়সী মেয়ে আছে।

স্থানীয় স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। হাসান প্রায় সাত বছর আগে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে পিকনিকে যায়। ফেরার পথে বাসের ছাদ থেকে পড়ে সে আহত হয়। এরপর থেকে অস্বাভাবিক আচরণ (পাগলামি) করতে থাকে।

তাকে বগুড়ার বিভিন্ন ডাক্তার ও পাবনার মানসিক হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হলেও ভালো হয়নি। বাড়ি থেকে বের হলে প্রতিবেশীরা তাকে ঢিল ছুড়ত, নানাভাবে বিরক্ত করত। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পায়ে শিকল দিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে যখন ভালো থাকত, তখন শিকল খুলে দেয়া হতো।

তার পাগলামোর কারণে পাঁচ বছর আগে স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে গেছে। সংসারের অভাবের কারণে তাকে ভালো চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না।

দুপচাঁচিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সালেহ মোহাম্মদ নূহ জানান, তিনি এর আগে হাসানকে ছাগল দিয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন জানান, তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে হাসান ফকিরকে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার খবর পান। বিষয়টি খুবই অমানবিক হওয়ায় তিনি সোমবার দীঘি সাজাপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হাসানকে শিকলমুক্ত করেন।

তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ থেকে তার চিকিৎসার ব্যয়বহন করা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন