জুয়াড়িদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টায় আ'লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০১৮, ২২:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের সখীপুর থানাহাজত থেকে ছয় জুয়াড়িকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে ৯ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সখীপুর থানা পুলিশ। 

মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের তিন ভাতিজা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আতিক শিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর তারেক, মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক শিকদার, ভাগনে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক বাবুল সিদ্দিকী, ব্যক্তিগত সহকারী জনি আহমেদ, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেবিএম রুহুল আমিন, শ্রমিক নেতা হেলাল উদ্দিন, যুবলীগ নেতা মিলন ও পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, পৌর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এখলাছ হায়াৎ সরোয়ার।

সোমবার রাতে সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর তারেক ও পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এখলাছ হায়াৎ সরোয়ারসহ ৯ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নামে মামলা করেন। 


মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় সখীপুর থানা পুলিশ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের রামখাঁ বাংলা বাজার থেকে জুয়া খেলার সময় ছয় জুয়াড়িকে আটক  করে।  খবর পেয়ে ওই রাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শওকত শিকদার তার ভাতিজা স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর তারেক ও পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এখলাছ হায়াৎ সরোয়ারসহ বেশকিছু নেতাকর্মী জুয়াড়িদের ছেড়ে দিতে পুলিশকে চাপ দেয়। 

পুলিশ তাদের ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে থানাহাজতের তালা ভেঙে হাজত থেকে জুয়াড়িদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে তারা থানা ওসি এসএম তুহিন আলীর কক্ষে ঢুকে তার সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং তাকে বদলি করার হুমকি দেয়। 

এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত শিকদার ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। 

এ ব্যাপারে সখীপুর থানা ওসি এসএম তুহিন আলী বলেন, থানা হাজতের দরজা ও তালা ভেঙে জুয়াড়িদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  
     
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর তারেক বলেন, ঘটনাটি সাজানো ও পরিকল্পিত। আসামি ছিনতাই চেষ্টার প্রশ্নই ওঠে না। নেতাকর্মী নয় বরং পুলিশই আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। 
      
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত শিকদার বলেন, ওই সময় আমি থানায় উপস্থিত ছিলাম। সেখানে আসামি ছিনতাই চেষ্টা বা পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক কিছু হয়নি। মামলাটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা সাজানো মামলা করা হয়েছে।