তারেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি, প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা সহায়তা চায় পরিবার

  রাজশাহী ব্যুরো ০৭ জুলাই ২০১৮, ২১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

তারেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি, প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা সহায়তা চায় পরিবার
ফাইল ছবি

কোটা আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম তারেক বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

গুরুতর আহত তারেকের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে। শনিবার দুপুরের পর তার আট থেকে দশবার বমি হয়েছে। বেশির ভাগ সময় তার জ্ঞান থাকছে না বলে জানান তারেকের বোন ফাতেমা খাতুন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গত ৫ জুলাই ‘জোরপূর্বক ছাড়পত্র’ দেয়ার পর বর্তমানে নগরীর রয়েল হাসপাতালের ৬০৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন তারেক।

আহত তারেকের পাশে অবস্থান করা বন্ধু মতিউর রহমান বলেন, তারেকের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। দুপুরের খাবার খাওয়ানোর পর থেকে অনবরত বমি করছে। তাছাড়া সময়মতো ডাক্তার উপস্থিত না থাকায় আমরা আরও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি।

বোন ফাতেমা খাতুন বলেন, একবার ডাক্তার এসে ৭টি পরীক্ষা করাতে বলেছিলেন। আমরা করিয়েছি। রিপোর্টগুলোও হাতে আছে। কিন্তু ডাক্তার এখনও রিপোর্টগুলো দেখেননি। ফলে কিছু বুঝতে পারছি না। প্রচণ্ড ব্যথার কারণে রাতে ঘুমাতে পারছেন তিনি। সব সময় কাতরাচ্ছেন। ফলে আমরা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

এদিকে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান তারেকের পরিবারের সদস্যরা। প্রতিদিন চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। তারেকের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা খুরশেদ আলম। তারা তিন ভাইবোন লেখাপাড়া করছেন। ফলে দরিদ্র এ পরিবারটির সদস্যরা চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে পারবেন কী না- তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। এ অবস্থায় অসহায় পরিবারটির সদস্যরা চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারেকের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তারেক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। সামনে সেপ্টেম্বরে তার মাস্টার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা। কোটা সংস্কার আন্দোলন পরিষদ রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তিনি।

গত ২ জুলাই বিকালে কোটা সংস্কার অন্দোলনকারীরা জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় রামদা, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের দুটি হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া মাথায় গুরুতর জখম হয়।

তারেকের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম বগুড়া আজিজুল হক কলেজে মার্কেটিং বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছেন। বোন ফাতিমা খাতুন বগুড়ার অন্য একটি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয়বর্ষে অধ্যয়নরত। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একমাত্র আয়ের উৎস বাবা। তিনি কৃষিকাজ করেন। মা গৃহিণী।

তারেকের চিকিৎসার খরচ সম্পর্কে জানতে চাইলে বোন ফাতেমা খাতুন আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই আর পরিচিতজনদের সহায়তায় আমার ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে। তারেকের সহপাঠীরা অর্থ সংগ্রহ করে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করছেন। তাকে দিনে দুটি ইনজেকশন দিতে হয়। প্রতিটির দাম দেড় হাজার টাকা।

এছাড়া অন্য দামি ওষুধও কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালের সিট ভাড়া, ডাক্তারের ফি, ওষুধপত্র সব মিলিয়ে প্রতিদিন আট থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়ে ফাতেমা খাতুন বলেন, তারেকের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয়ভার কীভাবে বহন করব, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।

আমার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তার ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব না। আমরা খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। আমার ভাইয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতের মুখে। তাই ভাইকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

রয়েল হাসপাতালের চিকিৎসক সাঈদ আহমেদ বাবুর তত্ত্বাবধানে তারেকের চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, হাতুড়িপেটায় তারেকের ভেঙে যাওয়া ডান পায়ের হাড় জোড়া লাগতে দীর্ঘ সময় চিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত রয়েছে।

দুপুরের পর থেকে তারেকের ঘন ঘন বমি এবং জ্ঞান না থাকা প্রসঙ্গে চিকিৎসক বাবু বলেন, মাথায় আঘাতের কারণে এমনটি হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি অন্য চিকিৎসকদের কাছেও পরামর্শ নিচ্ছি। তবে সময়মতো তারেককে দেখভাল করা হচ্ছে না- পরিবারের সদস্যদের এ ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি এ চিকিৎসক।

ঘটনাপ্রবাহ : কোটাবিরোধী আন্দোলন ২০১৮

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter