স্কুলে দুর্গন্ধযুক্ত পানি, অসুস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি ০৮ জুলাই ২০১৮, ১১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

শরীয়তপুরে স্কুলে দুর্গন্ধযুক্ত পানি, অসুস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা
ছবি- যুগান্তর

বিদ্যালয় মাঠে বাজারের ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি ও বৃষ্টির পানি ঢুকে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যবস্থা। দূষিত এ পানির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা সদরের পৌরসভার দাশেরজঙ্গল বাজারের পশ্চিম পাশে ২নং দাশেরজঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, বিদ্যালয় মাঠে জমে থাকা ময়লা, পচা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি দিয়ে বইখাতা, পেনসিল আর স্কুলব্যাগ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রায় অর্ধশতাধিক শিশুশিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

তবে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিভাবক সেতু ঢালী বলেন, আমার ছেলে এ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাকে স্কুলে নিয়ে এলে ক্লাসের ফাঁকে সে মাঠে জমে থাকা পানিতে খেলতে যেতে চায়। বাধা দিয়ে রাখা যায় না। আর এসব ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে খেলা করে শিনেকেই সর্দি, কাশি, জ্বরর ও এলার্জিতে ভুগছে।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিলি আক্তার, লিখন দে, মাসুম বিল্লাহ, জেহাদ সরদার, হারুন বলেন, এ পচা পানি দিয়ে আমাদের শিশুরা বিদ্যালয় গিয়ে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আগামী ১২ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট শুরু হবে। এ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরিক্ষা দেবে এ নিয়ে আমরা অনেক অভিভাবক দুশ্চিন্তায় রয়েছি। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে এ নোংরা পরিবেশ থেকে পরিত্রাণের দাবি করছি।

বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আয়েশা ও আঁখি বলেন, পচা পানি পার হয়ে ক্লাসরুমে যেতে হয়। এ কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসে না।চতুর্থ শ্রেণির সাজ্জাদুল বর্ষণ বলেন, পানি থাকায় গর্ত না দেখে পা পিছলে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি।

৫ম শ্রেণির আদিবা ইসলাম ও নাহিয়ান কাব্য বলেন, পচা পানি দিয়ে যাওয়ার কারণে এলার্জি আর চুলকানিতে আমরা অসুস্থ হয়ে গেছি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওয়াহিদা আঞ্জুমান মুক্তা ও শিক্ষক আ. ছাত্তার মিয়া বলেন, বদ্ধ পানির কারণে চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তাতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে। বিদ্যালয় মাঠে পানি থাকার কারণে খেলাধুলা এবং দৈনন্দিন সমাবেশে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না।

প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন মৃধা জানান, বিদ্যালয় মাঠে পানি জমে থাকার বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় মাঠটি পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এবং আশপাশের পুকুর ডোবা ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পানির জলাদ্ধতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। মাঠে মাটি ভরাট করা পর্যন্ত এ সমস্যা দূর হবে না। সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

গোসাইরহাট উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কুদ্দুছ হাওলাদার বলেন, বিদ্যালয় মাঠ থেকে বাজার ও রাস্তা বেশি উচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ বছর থেকে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আমরা জেনেছি অর্থ বছরের শেষ হওয়ার পর। এ কারণে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা অবহিত করেছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার আশ্বাস এসেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমপির কাছে বিষয়টি জানাতে বলেছি। আগামী জেলা উন্নয়ন সভায় বিষয়টি তুলে ধরে স্থায়ীভাবে সমাধানের চেষ্টা করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরএম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, পৌরসভার প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter