নিখোঁজের ৪ দিন পর মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৮, ১৫:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি

ছবি: যুগান্তর

শরীয়তপুরে নিখোঁজের চার দিন পর কালু সিকদার নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সোমবার ভোরে শরীয়তপুর-মাদারীপুর মহাসড়কের কাশিপুর বটতলা নামক স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত কালু সিকদার (৩২) শরীয়তপুর সদর উপজেলার খেলসী বিলাসখান গ্রামের সিরাজ সিকদারের ছেলে।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার সাদা পোশাকধারী পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।  

নিহতের চাচা সেলিম শিকদার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন লোক কালু শিকদারকে শরীয়তপুর পৌরসভার খেলসী গ্রামের খোকন শাহর বাড়ির নিকট থেকে ধরে নিয়ে যায়। 

ধরে নিয়ে যাওয়ার পর কালু শিকদারের আত্মীয়স্বজনরা পালং মডেল থানা ও ডিবি পুলিশ অফিসে খোঁজখবর নেয়। কিন্তু পুলিশ ও ডিবি অফিস থেকে বলা হয়, এ নামে তারা কোনো লোক ধরে আনেনি। 

এর পর তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পর দিন শনিবার পালং মডেল থানায় পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সিদ্দিকুর রহমান চৌকিদার, পালং ইউনিয়নের মেম্বার বোরহান উদ্দিন মুন্সিসহ আত্মীয়স্বজনরা সাধারণ ডায়েরি করতে যায়। কিন্তু পালং মডেল থানার পুলিশ সাধারণ ডায়েরি নেয়নি। 

নিহতের বোন কাকলী বেগম ও তার মা শান্তি বেগম বলেন, শনিবার রাতে পালং ইউনিয়নের চাঁদসার গ্রামের বাদশা সরদারের ছেলে রাশেদ সরদার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কালু শিকদারকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে আজ পুলিশ তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। 

তবে ডিবি পুলিশের আটকের কথা অস্বীকার করে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন বলেন, নিহত কালু শিকদার এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মামলার আসামি ছিল। মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দের জেরে সে খুন হতে পারে।

নিহতের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।