শিকলে বেঁধে চুল কেটে গৃহবধূকে প্রস্রাব খাওয়ায় স্বামী!

  ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি ০৯ জুলাই ২০১৮, ২১:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

গ্রেফতারকৃত নির্যাতনকারী স্বামী মঞ্জুর আলম বাদল হাজারি
গ্রেফতারকৃত নির্যাতনকারী স্বামী মঞ্জুর আলম বাদল হাজারি। ছবি: যুগান্তর

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় এক গৃহবধূর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে তার স্বামী। অর্ধউলঙ্গ করে কোমরে শিকল বেঁধে টানা চার দিন গৃহবধূ তাহেরা আক্তার রিনাকে (২৪) অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে।

মারধর করে স্বামীর প্রস্রাব জোর করে পান করতে বাধ্য করা হয়েছে তাকে। চিৎকার করায় কেটে দেয়া হয়েছে তার মাথার চুল।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর গ্রামের তার স্বামীর বাড়ি হাজারি বাড়ি থেকে কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় তাহেরা আক্তার রিনাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিন রাত ১০টার দিকে নির্যাতনকারী স্বামী মঞ্জুর আলম বাদল হাজারিকে (৪৫) ওই এলাকা থেকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েল। রাতে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা করেছেন।

সোমবার ফেনীর আদালতে পাঠানো হয়েছে মঞ্জুর আলম বাদল হাজারিকে।

মঞ্জুর আলম বাদল হাজারি উত্তর হরিপুর গ্রামের মৃত নজির আহমদ হাজারির ছেলে।

নির্যাতনের শিকার তাহেরা আক্তার রিনা ফেনী সদরের কাতালিয়া গ্রামের মৃত আমিনুল এহসান ওরফে বাবুল ডাক্তারের মেয়ে।

এএসপি (ছাগলনাইয়া- পরশুরাম সার্কেল) নিশান চাকমা রাতেই থানায় এসে ভিকটিম এবং আসামিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

গৃহবধূ সাংবাদিকদের বলেছেন, বাদলকে প্রথম দেখায় তার পছন্দ হয়নি। তাকে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে এ অমানুষিক নির্যাতনের পেছনে তার মা এবং ভাইয়ের হাত রয়েছে বলে তার দাবি।

মামলার এজাহারে তাহেরা আক্তার রিনা বলেছেন, ২০১৭ সালে ২৩ মার্চ তার মা বিবি ফাতেমা এবং ভাই রেজাউল করিম রাজু সামাজিকভাবে কাউকে না জানিয়ে তাকে ফেনীর লস্করহাট এলাকায় তার ফুফাতো বোনের স্বামীর বাড়িতে নিয়ে মঞ্জুর আলম বাদল হাজারির সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন, বাদল এর আগেও দুই বিয়ে করেছেন এবং দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে নানা ছুতোয় তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

রিনারও ২০১৪ সালে চৌদ্দগ্রামে কামাল নামে এক মৌলভীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। তখন সে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। বনিবনা না হওয়ায় এক বছরের মাথায় তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। বাদলের সঙ্গে বিয়ের পর কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি বাদল হাজারির।

তার নির্যাতন সইতে না পেরে গত বছরের অক্টোবর মাসে কৌশলে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা কেরানিগঞ্জ চলে যান রিনা। প্রায় ৯ মাস পর তিনি গত ৫ জুলাই দুপুরে তার চৌদ্দগ্রামের চিউড়া এলাকার নানার বাড়িতে ফেরেন।

খবর পেয়ে ওইদিন বিকালে ওই বাড়িতে হাজির হন তার, মা, ভাই এবং স্বামী। ওইদিন সন্ধ্যায় তারা তার হাত পা বেঁধে হায়াস মাইক্রো করে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। তার মা, ভাই চলে যাওয়ার পর স্বামী বাদল হাজারি তার কোমরে শিকলের একাংশ বেঁধে অপর অংশ জানালার সঙ্গে তালা লাগিয়ে দেয়।

রিনা এজাহারে অভিযোগ করেন, বাদল হাজারি ওই রাতেই প্রস্রাব করে বোতলে ভরে তাকে (রিনা) জোর করে খাইয়ে দিয়েছেন এবং মাথার চুল কাচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন। তাকে তক্তা দিয়ে সারা শরীরে আঘাত করেছেন।

এছাড়া রিনার ব্যবহৃত সব জামাকাপড় কেটে টুকরো করে দিয়েছে বাদল। তার নির্যাতনের চিৎকার হলে বাদলের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। গোপনে খবর পেয়ে গৃহবধূকে এসআই নাইমের নেতৃত্বে উদ্ধার করে পুলিশ।

বাদল হাজারির বাড়ির লোকজন জানান, বাদলের অত্যাচারে আগের দুই বউ তাকে তালাক দিয়েছে। দুই সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। এ সংসারে কোনো সন্তান নেই। এ বউয়ের ভাই এবং মা তার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। যার কারণে মেয়ের প্রতি তাদের দরদ নেই।

বাদল হাজারির ৪ ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বাদলের বদমেজাজির কারণে বাড়ির লোকজন কেউ শান্তিতে নেই।

পাঠাননগর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার জুয়েল বলেন, খবর পেয়ে বাদলকে আটক করে পুলিশে দিয়েছি। স্বামী ও স্ত্রী দুজনেরই মধ্যে দোষ রয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুদ্বীপ রায় পলাশ জানান, ভিকটিমকে ( তাহেরা আক্তার রিনা) সেফহোমে পাঠানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তার মা এবং একমাত্র ভাইকে খবর দেয়ার পরও তাকে নিয়ে যেতে তারা থানায় আসেনি।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি এমএম মুর্শেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে থানায় এনে কোমর থেকে কেটে শিকল খোলা হয়েছে। সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই গৃহবধূর স্বামী বাদল হাজারিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.