বিদ্যালয়-শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী!

  ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০১৮, ২১:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: রংপুরের ডিমলা প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম জাহিদ

ফাঁকা মাঠে কয়েকটি বাঁশের সঙ্গে টিন বেঁধে একটি ছাউনি, এক পাশে টিন বেঁধে বেড়া দেয়া, তিন পাশ খোলা, কয়েকটি বেঞ্চ, কয়েকজন শিক্ষার্থী আর একজন শিক্ষক। এটা একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শিক্ষার করুণ অবস্থার চিত্র পাওয়া গেল নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের পূর্ব ছাতুনামার চরে। শুধুমাত্র কাগজ-কলমে শিক্ষা দেয়া হয় পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

তিস্তার দুর্গম চরের অভিযোগ তুলে দিনের পর দিন এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন শিক্ষক অনুপস্থিত থাকেন। মাসে ২-৩ দিন এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিল উত্তোলন করেন। একজন শিক্ষক নিয়মিত আসলেও ক্লাশ নেয়া সম্ভব হয় না।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: রংপুরের ডিমলা প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম জাহিদ

২০১৭ সালের বন্যার বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার পর চরে টিনের ঘর তৈরি করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয় অভিভাবকরা।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেয়া যায়, পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন শিক্ষক অনুপস্থিত।বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার একাই প্রতিদিন লুঙ্গি পরে আসেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, তিনজন শিক্ষক মাসে ২-৩ দিন এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সরকারি বেতন উত্তোলন করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকলেও সেখানে পড়াশোনা না হওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী হাতিবান্ধা থানায় আত্মীয়ের বাসায় রেখে পড়াশোনা করাচ্ছেন সন্তানদের।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: রংপুরের ডিমলা প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম জাহিদ

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, পূর্ব ছাতুনামা চরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও পড়াশোনা না হওয়ায় অভিভাবকরা পার্শ্ববর্তী এলাকায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে।

সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, তিনজন শিক্ষক সবাই ব্যস্ত আছেন বৃহস্পতিবার ক্লাস্টারের মিটিংয়ে খাওয়ার জন্য বাজার করতে গেছেন। লুঙ্গি পরে প্রতিষ্ঠানে আসার বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমতি নেয়া আছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, আমি তো বিদ্যালয়ের ক্লাস্টারের বাজার করার কাজে ব্যস্ত আছি।

সহকারী শিক্ষক লুঙ্গি পরে প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে বলেন, নদী পার হওয়ার কারণে লুঙ্গি পরে ক্লাশ নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। অন্য শিক্ষকরা অনুপস্থিত প্রসঙ্গ জানতে চাইলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে রাখেন।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতুনামা আমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: রংপুরের ডিমলা প্রতিনিধি জাহেদুল ইসলাম জাহিদ

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল আলম বলেন, সহকারী শিক্ষক লুঙ্গি পরে ক্লাশ করার কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনজন শিক্ষক কেন অনুপস্থিত বিষয়টি আমার জানা নেই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাশ বলেন, আমি ছুটিতে আছি বিষয়টি বলতে পারব না। তবে সহকারী শিক্ষা অফিসারকে খোঁজ নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বলা হয়েছে। লুঙ্গি পরে কোনো শিক্ষকের ক্লাশ করার নিয়ম নেই।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম বলেন, বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.