মাদক ব্যবসার প্রতিবাদই কাল হলো দবির মিয়ার

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৮, ২১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি-যুগান্তর

ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জামাল মোল্লা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এলাকা ছাড়তে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা দবির মিয়ার। চেয়ারম্যান তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি হাত ভেঙে দিয়েছে। 

বাড়িছাড়া করেছে দবির মিয়াসহ তার আরও তিন ভাইয়ের পরিবারকে। চেয়ারম্যানের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে থানা পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি। 

বাধ্য হয়ে শুক্রবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তাদের ওপর নির্যাতন এবং হামালা, ভাঙচুরের বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দবির মিয়া বলেন, নগরকান্দা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জামাল মোল্লাসহ তার ভাগনেরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তারা টেকনাফ থেকে সরাসরি ইয়াবা এনে এবং ভারত থেকে ফেনসিডিল এনে এলাকায় মাদকের হাট বানিয়ে ফেলেছে। চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। 

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ১৭ জানুয়ারি জামাল মোল্লার নির্দেশে সন্ত্রাসী লিটু, সোহেল, রিন্টু, এস্কেন মোল্লাসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী সুতারকান্দা গ্রামে তাকে ও তার ৮ বছর বয়সী ছেলেকে ব্যাপক মারধর করে। এতে আমার বাম হাত ভেঙে যায়। এ ঘটনায় মামলা করতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রাণের ভয়ে আর মামলা করা হয়নি। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ৯ জুন র‌্যাবের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী জামাল মোল্লার ভাগনে সোহেল নিখোঁজ হয়। ভাগনে নিখোঁজ হওয়ার পর তারা আমাকে সন্দেহ করে। তাদের ধারণা আমি র‌্যাবকে তথ্য দিয়েছি। 

তিনি বলেন, আসলে আমি এ ধরনের কোনো ঘটনা জানতাম না। যেদিন ভাগনে নিখোঁজ হয় ওই দিনই সেন্টু মোল্লা, বাচ্চু মাতবর, রেজাউল হোসেন রেজুর নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা আমার ভাইদের পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। 

তিনি জানান, বর্তমানে আমরা চার ভাই কেউ বাড়িতে যেতে পারছি না। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। এ অত্যাচার থেকে বাঁচতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, র‌্যাব ডিজিসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে দবির মিয়া আরও বলেন, জামাল মোল্লার বড় ভগ্নিপতি জাহিদ হোসেন খোকন যুদ্ধাপরাধী মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তার বড় ভাই ফরিদ মোল্লা চোরকারবারি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে জামাল মোল্লা আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। 

তিনি জানান, জামাল মোল্লার ভাগনে ইয়াবা ব্যবসায়ী লিটু, সোহেল, রিন্টু ও আশিক টেকনাফ থেকে ইয়াবা ও ভারত থেকে ফেনসিডিল এনে মোটরসাইকেলে হোম ডেলিভারি দেয়। তার ভাগনেদের মধ্যে লিটু ১৯টি, সোহেল ১০টি মামলা ও র‌্যাবের তালিকাভুক্ত আসামি। আরেক ভাগনে আশিক হত্যা মামলার পলাতক আসামি। আরেক ভাগনে রিন্টুর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক ব্যবসা করে জামাল মোল্লা ও তার ভাগনেরা কোটিপতি বনে গেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে নগরকান্দা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জামাল মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।