হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের হাসপাতালের জন্য সম্মিলিত ডাক চান শাওন

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৯:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

  গাজীপুর প্রতিনিধি

হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশ পল্লীতে স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। ছবি: যুগান্তর

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেছেন, ক্যানসার হাসপাতালের কথা হুমায়ূন আহমেদ তার লেখায় বলে গেছেন। এটা আমার পরিবারের একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

তিনি আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে এটা হওয়ার একটা চেষ্টা চালাতে হবে। সেই চেষ্টা আমাদের দেশের গুণীজন, বুদ্ধিজীবী ও নীতিনির্ধারকরা যারা আছেন তাদের প্রত্যেকবার আমি সেই অনুরোধ করি। তারা যদি সম্মিলিতভাবে ডাক দেন তাহলে হুমায়ূন আহমেদের সেই স্বপ্নের হাসপাতাল হতে পারে। হুমায়ূন স্মৃতি জাদুঘর প্রক্রিয়াধীন আছে। নুহাশ পল্লীর নিজস্ব অর্থেই আমরা এটা করতে চাই।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকায় নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন শাওন।

তিনি বলেন, হুমায়ুন আহমেদকে ছাড়া প্রতিটা দিন তার ভক্তদের মতো পরিবারের একই রকম কষ্ট। ১৯ জুলাই ২০১২ সালের পর ১৯ জুলাই আসতে হয় না প্রত্যেক বছর প্রত্যেক দিন আমাদের একই রকম তাকে স্বরণ করি বা তাকে ভেবেই কাটে।

শাওন বলেন, আর কোনো প্রত্যাশা নেই। হুমায়ূন আহমেদ যা করে গেছেন তার কর্ম, তার লেখা, তার নির্মাণ সব কিছুর মধ্যে উনি তার কর্মের মাধ্যমে বেঁচে আছেন, তার লেখার মাধ্যমে তিনি বেঁচে আছেন তার ভক্তদের মাঝে। সে জন্য ভক্তদের কাছে প্রত্যাশার কিছু নেই। 

তিনি বলেন, একটা আশা ছিল হুমায়ূন আহমেদের মতো একজন গুণী লেখক আমাদের বাংলা সাহিত্যে আছেন। যার বাংলাদেশে জন্ম। ৬ বছর হয়ে গেল তিনি নেই। আমি খুব স্বপ্ন দেখতাম একটা রাস্তা অথবা একটা চত্বর যদি হতো হুমায়ূন আহমেদের নামে। যে বই মেলাটাকে একহাতে টেনে নিয়ে গেছে কুড়ি বছরের বেশি। বাংলাবাজার যে প্রকাশনা সংস্থাগুলো বা প্রকাশকরা যেখানে যান তাদের অফিস বা কাজের জায়গাগুলো। বাংলাবাজারে কোনো একটা রাস্তা বা চত্বর হতে পারতো হুমায়ূন আহমেদের নামে। এ রকম কিছু স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন তো এমনি, পূরণ না হলেও স্বপ্ন দেখে যাই। সেই স্বপ্ন আমি আজীবন দেখে যাব হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে। কখনও একটা রাস্তা বা চত্বর হবে।

এ সময় শাওনের ছেলে নিষাদ, নিনিত ও হুমায়ূন আহমেদের অসংখ্য ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুলের শুভেচ্ছা, কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।