আদালতে জবানবন্দি

রত্মা রানীকে দিয়ে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বপনকে সাত টুকরো করে পিন্টু

  আলামিন প্রধান, ফতুল্লা থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮, ২২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

রত্মা রাণী
রত্মা রাণী

নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়ায় নিজ ফ্ল্যাটে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের মতোই পাসপোর্ট অফিসের দালাল স্বপন কুমারকেও সাত টুকরো করে হত্যা করেছে পিন্টু দেবনাথ।

হত্যার আগে শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে পিন্টু তার প্রেমিকা রত্মা রানীকে দিয়ে স্বপনকে ডেকে নেয় পিন্টুর ওই ফ্ল্যাটে। এরপর বিছানায় বসিয়ে যৌন উত্তেজক ওষুধের কথা বলে ফ্রুটিকা জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বপনকে পান করান রত্মা রানী।

জুস পান করেই ঘুমিয়ে পড়েন স্বপন। এরপর শীলপাটা দিয়ে স্বপনের মাথায় আঘাত করে পিন্টু। পরে লাশ গুমের জন্য সাত টুকরো করে বাজারের ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ফেলে দেয় পিন্টু দেবনাথ।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে এসব কথা বলেন রত্মা রানী। একই সময় এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া স্থানীয় বড় ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল মোহসীনের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

কোর্ট পুলিশের এসআই কামাল হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এসআই মফিজুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী ও পাসপোর্ট অফিসের দালাল স্বপন কুমার সাহা, আমলাপাড়া এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ ছিলেন একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

আর রত্মা রানী ছিলেন পিন্টুর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রত্মা রানীর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার নেয় পিন্টু। এরপর থেকে রত্মা রানী প্রায় সময়ই পিন্টুর ফ্ল্যাটে যাতায়াত করত এবং তাদের মধ্যে অবৈধ মেলামেশা চলত।

তিনি আরও জানান, পিন্টুকে ভারতে বাড়ি কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখায় স্বপন। এরপর ভারতে নিয়ে একটি ফ্ল্যাট পিন্টুর টাকায় স্বপন তার ভাগনির নামে কিনে দেয়।

তখন পিন্টুকে স্বপন আশ্বাস দেয়- তাকে ভারতের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিয়ে তার ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু তা না করে পিন্টুকে ঘুরাতে থাকে স্বপন। একই সঙ্গে প্রবীর ঘোষের সঙ্গে মিলে পিন্টুকে নানাভাবে হয়রানি করতে পরামর্শ করে স্বপন।

মামলার বাদী নিহত স্বপনের ভাই অজিত কুমার সাহা বলেন, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরো কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। গত ৯ জুলাই পিন্টুর বাসার সেপটিক ট্যাংকি থেকে প্রবীর ঘোষের টুকরো টুকরো লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে।

পরে ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগী বাপন ভৌমিক বাবু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। সে তখন পিন্টু দেবনাথের এক বান্ধবী রত্মা রানী চক্রবর্তীর সন্ধান দেন। তার মোবাইল নম্বর পর্যালোচনা করে জানা গেছে স্বপনের মোবাইলটি রত্মা ব্যবহার করছে।

১৫ জুলাই রোববার রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করে। মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্ল্যাট কেনে। ওই ফ্লাট স্বপন না দিয়ে বরং উল্টো হুমকি দিচ্ছিল। এসব কারণেই ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত।

তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু। রত্মা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে পিন্টু দেবনাথের বাসায় বসে স্বপনকে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়া হয়েছে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.