মাদারীপুরে সেই মেধাবী শিক্ষার্থীর সহায়তায় র‌্যাব

  মাদারীপুর প্রতিনিধি ২২ জুলাই ২০১৮, ২১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরে সেই মেধাবী শিক্ষার্থীর সহায়তায় র‌্যাব
কাকলীর পরিবারকে র‌্যাবের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হচ্ছে। ছবি: যুগান্তর

অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর চোখে-মুখে আছে স্বপ্ন জয়ের আশা। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার মতো মেধা আছে। তবে আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই। পরিবারে কোনো শিক্ষিত সদস্য নেই, যে তাকে দিতে পারবে উচ্চ শিক্ষার দিক নির্দেশনা।

কাকলীর বাবা একজন খেটে খাওয়া দিন মজুর, মা গৃহিনী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় কাকলী। তার স্বপ্ন সে একজন উচ্চশিক্ষিত নারী হয়ে দেশের সেবা করবে। তাই সে সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী। কাকলীর এই পরিস্থিতিতে তাকে সাহায্য ও সাহস যোগানের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে এগিয়ে এসেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)।

তাকে ফুলের শুভেচ্ছা দিয়ে অভিন্দন জানিয়েছেন র‌্যাব-৮, মাদারীপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মো. খালেদ মাহমুদ। মেধাবী কাকলী মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী। সে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

রোববার দুপুরে মাদারীপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সাংবাদিকদের বলেন, ডিজি র‌্যাব ফোর্সেস মহোদয় কাকলীর পড়াশোনা ও পরিবারের বিষয়টি বিভিন্ন পত্রপত্রিকার ও মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরে মেধাবী এই ছাত্রীর ব্যাপারে খুবই সদয় আছেন। তিনি চান এই ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অকালে ঝরে না পড়ে। কাকলী যাতে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারে সে ব্যাপারে র‌্যাব সর্বদা তার পাশে থাকবে।’

শনিবার র‌্যাবের পক্ষ হতে ক্যাপ্টেন মো. খালেদ মাহমুদ নগদ ১০ হাজার টাকা, মিষ্টি এবং একটি ড্রেস উপহার দেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর এইচএসসির ফলাফলে জেলার শিবচর উপজেলার ৫টি কলেজের মধ্যে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ ৮৮.৫৯ ভাগ উত্তীর্ন হয়ে শীর্ষ স্থান দখল করে। উপজেলার মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনধারী ওই কলেজের মেধাবী ছাত্রী কাকলী আক্তার। দফায় দফায় পদ্মা নদী ভাঙন আক্রান্ত কাকলীর নিঃস্ব পরিবারটি উপজেলার পাচ্চরে এক চালার একটি খুপড়ি ঘরে বসবাস।

৫ ভাই বোনের সংসারে বাবা হারুণ মাদবর দিনমজুর আর মা তাসলিমা বেগম সংসারী। অন্যের জমিতে বাবা দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালান। ছোট সময় থেকেই লেখাপড়ায় মনোযোগী কাকলী এসএসসিতে পাচ্চর বালিকা বিদ্যালয় থেকে জীবন সংগ্রাম করে জিপিএ-৫ অর্জন করে। পরে প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় ভর্তি ফি ছাড়াই ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ কর্ত্তৃপক্ষ কাকলীকে পড়ার সুযোগ করে দেন। বেতনসহ যাবতীয় খরচ ফ্রি করে দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। যাতায়াতসহ বাকি খরচ চালাতে পাশের বাড়ির শিশুদের প্রাইভেট পড়িয়ে নিজেই চালাত নিজের খরচ।

দিনমজুর বাবা খাবার জোগাতেই হিমশিম খাওয়ায় টাকার অভাবে কলেজের মাত্র ৪টি বই কিনতে পারে কাকলী। অন্যের পুরাতন বই এনে পড়তে হয়েছে তাকে। বাড়িতে বিদ্যুত না থাকায় দিনের বেলাকেই বেশি বেছে নিতো পড়ার ক্ষেত্রে। খাতা ফুরিয়ে যাওয়ার শংকায় পড়তো বেশি লেখতো কম। ভাড়া না থাকায় অনেকদিন কলেজও বাদ দিতে হয়েছে। পরীক্ষায় সময় ভালো কোনো খাবার মুখে তুলে দিতে পারেনি তার মা-বাবা।

ঘটনাপ্রবাহ : অদম্য মেধাবী কাকলী

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×