যুগান্তরের গোলটেবিল : কেমন মেয়র চাই

সবাই মিলে সুন্দর-পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার স্বপ্ন কামরানের

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ জুলাই ২০১৮, ১৮:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান
দৈনিক যুগান্তরের গোলটেবিল বৈঠকে কামরান। ছবি: যুগান্তর

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হলে সব দলমতের নাগরিকদের নিয়ে একটি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে সিলেটকে গড়ে তুলবেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

সোমবার সকালে সিসিক নির্বাচন ২০১৮ সামনে রেখে সিলেটে দৈনিক যুগান্তর আয়োজিত ‘কেমন মেয়র চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ স্বপ্নের কথা বলেন।

কামরান বলেন, সিলেট নগরী নিয়ে আমরা যতটুকু ভাবি তার চেয়ে বেশি ভাবেন নাগরিকরা। আমরা সবাই একটি সুন্দর-পরিচ্ছন্ন নগরী চাই। যেখানে কোনো ধরনের জঞ্জাল থাকবে না।

গোলটেবিলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রত্যাশার জবাবে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এই সিলেটের কৃতীসন্তান বঙ্গবীর আতাউল গনি ওসমানী। অথচ সিলেটে কোনো বিজয়স্তম্ভ নেই। এটা আমাদেরই ব্যর্থতা। নির্বাচনের পর সরকারের সঙ্গে আলাপ করে একটি বিজয়স্তম্ভ নির্মাণের চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের কর্তব্য। কারণ তারা যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন না করলে আমরা আজ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারতাম না। কামরান উপস্থিত মেয়রপ্রার্থীদের দেখিয়ে সুধীজনদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, আমাদের দেখে কী মনে হয়- আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের হিংসা আছে?

বিএনপির মেয়রপ্রার্থীকে উদ্দেশ করে কামরান বলেন, বিশ্বাস রাখতে পারেন। কোনো মানুষকে হয়রানি করা বা পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে বিপদে ফেলার মানুষ আমি না। এগুলো জীবনেও করি নাই, এসব আমি পছন্দও করি না। আমি মনে করি, পুলিশ প্রশাসনের এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়। সব সময় বলে আসছি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।

কামরান বলেন, ইচ্ছা করলেই আমরা ছয় প্রার্থীই মেয়র হতে পারব না। আল্লাহর হুকুমে যে কোনো একজন মেয়র পদে নির্বাচিত হব। কিন্তু ৩০ তারিখের নির্বাচনের পরও আমাদের একে-অপরের সঙ্গে চলতে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখেই আমাদের সহমর্মিতা নিয়ে চলতে হবে। আমরা চাই সেটাকে ধরে রেখে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হোক।

তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই বলছেন আমি সরকারদলীয় প্রার্থী। আসলে প্রার্থী হওয়ার পর কেউ সরকারদলীয় থাকেন না। নির্বাচন কমিশন থেকে ইতিমধ্যেই আমাকে আচরণবিধির ব্যাপারে সতর্ক করেছে। আমাদের নির্বাচনী প্রচারণায় নগরবাসী খুবই কষ্টে আছেন। নগরজুড়ে মাইকের আওয়াজ, যা আমরা প্রার্থীরা হয়তো বুঝি না। যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে নগরীর সব রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা না থাকলে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন।

কামরান বলেন, মহানগরীর সম্পত্তি রয়েছে, সেটা যদি আমরা কাজে না লাগাই তাহলে এর কোনো মূল্যায়ন হবে না। মিউজিয়ামের জন্য উপযুক্ত স্থান জালালাবাদ পার্ক। এখানে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে ওপরে মিউজিয়াম করা সম্ভব। জাদুঘর সিলেটে নেই, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। টিলা কেটে বড় বড় দালান বানানোর পর ভূমিকম্পে ধ্বংস হলে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েও লাভ হবে না। কারণ আল্লাহ পাহাড় কাটা নিষেধ করেছেন। আমরা সারদা হলকে সারদা কমপ্লেক্স করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য বরাদ্দ করে দিতে পারি।

তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা কমানো যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সুরমা ড্রেজিং করা না হয়। গণপরিবহন নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত জরুরি। আপনারা অনেকেই জানেন বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় এলাকা সিলেট মহানগর পুলিশের। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এলাকাও বর্ধিত করা জরুরি। নগরীর পরিধি বড় না করলে সঠিকভাবে পরিকল্পনাও করা যাবে না।

কামরান বলেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনে আমি হেরে ছিলাম কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করিনি। মানুষ ভোট দেয়নি আমি হেরে গেছি। সুতরাং নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। একটি অবাধ, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে পুণ্যভূমির মর্যাদা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সব নিরাপদে থাকতে চাই। অতিউৎসাহী হয়ে কেউ এমন কিছু না করুক, যাতে আমাদের সিলেটের সুনাম নষ্ট হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.