উখিয়ায় পাহাড়ধস ও বৃষ্টিতে আশ্রয়হীন ৬ শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৮, ২২:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

ছবি: যুগান্তর

টানা ৩ দিনের ধরে উখিয়ায় ভারিবর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসতঘর ধসে পড়ে ৬ শতাধিক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। আশ্রয়হীন এসব রোহিঙ্গার বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করে যাচ্ছে বলে রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন। 

থাইংখালী তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ আলী জানান, সোমবার সন্ধ্যা থেকে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাতে তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্তত ১০০ বসতবাড়ি ধসে পড়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। তবে কোনো প্রকার প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। আশ্রয়হীন এসব পরিবারগুলোকে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ত্রাণ সহায়তা প্রদান করছে।

বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পের হেড মাঝি আবু তাহের জানান, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পটি মূলত গাছ ও পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে। শুরু থেকেই অতি ঝুঁকিপূর্ণ এ ক্যাম্পটি। ইতিপূর্বে প্রশাসন তার ক্যাম্পের ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে আশ্বস্ত করলেও ঝুঁকিপূর্ণ সব পরিবারকে সরিয়ে নিতে পারেনি।  

মঙ্গলবার রাতে ভারিবর্ষণের ফলে পাহাড়ের খাদে ও ওপরে গড়ে ওঠা ২৩০টি বসতঘর ধসে পড়েছে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে এসব পরিবারগুলো।

বালুখালী ১ নম্বর ক্যাম্পের মাঝি কবির আহমদ জানান, তার ক্যাম্পে ১৩০ বসতবাড়ি ধসে পড়েছে। একইভাবে কুতুপালং ক্যাম্পে ১২০টি, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া ক্যাম্পে শতাধিকসহ ৬০০ বসতঘর ধসে পড়ার ফলে ওইসব ঘরের রোহিঙ্গারা এখন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, ইতিমধ্যে ৩৫ হাজারের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাকি ঝুঁকিপূর্ণদের তালিকা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যত্রে সরিয়ে নেয়া হবে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, তিনি সকালে কয়েকটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। সেখানে কিছু বসতঘর ধসে পড়তে দেখা গেছে বলে জানান। এ সময় তিনি বলেন, তবে কোথাও কোনো প্রাণহানি অথবা বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।