রৌমারীতে আটক যুগান্তর সাংবাদিককে ২৪ ঘন্টা আটকে রেখে কুড়িগ্রামে চালান

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ২৯ জুলাই ২০১৮, ২০:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি এসএম সাদিক হোসেনকে হয়রানিমূলকভাবে আটক করা হয়েছে। তাকে শনিবার দুপুর ১২টায় আটক করা হলেও কুড়িগ্রাম কোর্টে চালান না দিয়ে রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত থানায় আটকে রাখা হয়।

এই সাংবাদিককে রোববার সকাল কিংবা দুপুরের নৌকায় পারাপার না করে বিকাল ৪টার নৌকায় তোলা হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক সমাজসহ উপজেলাবাসী।

রৌমারী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক গ্রহনসহ বিভিন্ন মামলায় নিরীহ লোকজনকে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ করায় এসএম সাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। ফলে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকার পরও সাদিককে বিভিন্ন মামলায় আসামি হিসেবে তার নাম ব্যবহার করা হয়। এর আগেও দৈনিক সংবাদের রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি আনিছুর রহমান আনিছকে এক আইসিটি মামলায় বাদী হতে চাপ দেয় পুলিশ। সেই মামলায় বাদী না হওয়ায় ৩১ অক্টোবর তাকে হয়রানি করতে সেই মামলায় ২ নম্বর আসামি করে আটক দেখিয়ে কোর্টে চালান করা হয়।

প্রায় দুইমাস জেল খেটে জামিন নিয়ে বের হয়ে আসে সাংবাদিক আনিছুর রহমান আনিছ। অথচ এখনও মূল আসামি সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুলিশের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও নির্যাতনের বিষয়ে রিপোর্ট করাই কাল হয়েছে সাদিক হোসেনের।

রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম-বিষয়ক সম্পাদক সুরুজ্জামান সরকার পুলিশ সদর দপ্তরে এক অভিযোগে জানান, ওসি জাহাঙ্গীর আলম টাঙ্গাইল করটিয়া সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় ছাত্রদলের কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বরাবরই বিএনপি ও জামায়াতপন্থীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। তার সহপাঠীদের কয়েকজনের সঙ্গে রৌমারী জুড়ে চালাচ্ছেন রমরমা মাদকের ব্যবসা।

সাদিকের সহকর্মীরা জানান, শনিবার ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করতে ঢাকা পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এআইজি) ওমর ফারুক রৌমারীতে আসেন। সাংবাদিক সাদিককে ওসির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কাগজপত্র নিয়ে আসার কথা ছিল। রৌমারী পুলিশ পরিকল্পিতভাবে সাদিকের প্রমাণপত্র গায়েব করার জন্য তাকে শনিবার কর্ত্তিমারী বাজার থেকে কাগজপত্রের ব্যাগসহ আটক করে।

এসময় স্থানীয়রা আটকের কারণ জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আকতার হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে নারী-শিশু ও মাদকের দুটি মামলায় ওয়ারেন্ট আছে।

অথচ ১১ জুলাই রৌমারী সার্কেল অফিসে দৈনিক যুগান্তরের উপজেলা প্রতিনিধি সাদিক হোসেন ও দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি আনিছুর রহমানকে ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য তথ্য প্রমাণ ও কাগজপত্রসহ ডাকা হয়েছিল। তারা সেখানে প্রমাণপত্র জমা দিয়ে চলে আসেন।

এ ঘটনার পরপরই সাদিক হোসেনের বিরুদ্ধে চটে যান ওসি জাহাঙ্গীর আলম। তাকে হেনস্থা ও হয়রাণী করার জন্য আটকের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

বিষয়টি নিয়ে রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী জানান, তদন্তে আসা এআইজি ওমর ফারুকের নিকট সাংবাদিক সাদিক হোসেন আসছিলেন। এ সময় তাকে আটক করার উদ্দেশ্য হলো যাতে তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত না হয়।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে আসামিকে বিকেল ৪টার নৌকায় কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। জার্নি টাইমের কারণে দেরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter