নীলফামারীতে ইঁদুর মারার বিষটোপে স্বামী-স্ত্রীর আত্মহত্যা

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৮, ২০:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে ইঁদুর মারা বিষের বড়ি খেয়ে স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী আদুরী বেগমের (১৮) মৃত্যু হয়।

অপরদিকে বেলা সোয়া ১২টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় স্বামী আজিনুর রহমানের (২২)। তাদের বাড়ি ওই ইউনিয়নে উত্তরাশষী কাছারীপাড়া গ্রামে।

প্রতিবেশীরা জানায়, সকাল ৯টার দিকে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ইঁদুর মারার বিষের বড়ি খেয়ে অসুস্থ হলে তাদেরকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সোয়া ১০টার দিকে আদুরী বেগমের মৃত্যু হয়। স্বামী আজিনুর রহমানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ১০ মাস আগে ইউনিয়নের উত্তরাশষী কাছারীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক আজিনুর রহমানের সঙ্গে একই ইউনিয়নের কুঠিপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের মেয়ে আদুরী বেগমের বিয়ে হয়। আজিনুর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কাজে যাওয়ার সময় স্ত্রী আদুরীকে তার বাবার বাড়িতে রেখে যেতেন।

১৫ দিন আগে ঢাকা থেকে ফিরে স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে আসেন। এরপর তিন দিন আগে আবারো স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে যান এবং সেখান থেকে স্ত্রীর নানির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরেন। এরপর রোববার সকালে নিজ শোয়ার ঘরে ইঁদুর মারার বিষের বড়ি খেয়ে দুজনেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।

আদুরীর চাচা বাবু হোসেন (৩৫) বলেন, আদুরীর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা হাসপতালে আসি। তাদের স্বামী-স্ত্রীর (আদুরী-আজিনুর) মধ্যে কোনো দ্বন্দ, কলহ ছিল না। তবে লোকমুখে শুনেছি শনিবার আদুরীর নানির বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পর দুজকেই গালমন্দ করেছেন আজিনুরের বাবা-মা।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আজিনুরের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশী রাজু ইসলাম (২৪) বলেন,‘আজিনুর ঢাকায় রাজমিস্তির কাজ করতো। এসময়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকতো। তাদের পরিবারের মধ্যে কখনো কোনো ঝগড়া বিবাদ দেখিনি। এভাবে একসঙ্গে আত্মহত্যার বিষয়টি আমাদেরকে হতবাক করেছে।

ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হবিবর রহমান বলেন, বেলা সোয়া ১০টার দিকে আদুরী এবং সোয়া ১২টার দিকে আজিনুরের মৃত্যুর খবর শুনেছি। তারা দুজনেই ইঁদুর মারার বিষের বড়ি খেয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি।

নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মমতা বেগম জানান, ওই স্বামী-স্ত্রী ইঁদুর মারার বিষটোপ খেয়ে অসুস্থ হলে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাদের স্বজনরা। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সোয়া ১০টার দিকে আদুরীর মৃত্যু হয়। আজিনুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থান্তর করা হয়।

নীলফামারী সদর থানার ওসি বাবুল আকতার বলেন, এঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।