সিসিক নির্বাচন

জামায়াতের আমিরসহ ৫ মেয়রপ্রার্থীর জামানত বাজেয়াফত

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০১৮, ১৪:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

  সিলেট ব্যুরো

ছবি- যুগান্তর

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামানত হারাতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ পাঁচ প্রার্থী। 

অন্যরা হলেন- ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, আবু জাফর, বদরুজ্জামান সেলিম ও মো. এহসানুল হক তাহের। 

সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাতভর ভোট গণনার পর দেখা যায়, এই পাঁচ প্রার্থী বিধিমালা ২০১০-এর ৪৪ বিধির ৩ উপবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হন।  

তাই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। 

নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক অফিস থেকে প্রকাশিত ১৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। 

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০-এর ৪৪ বিধির ৩ উপবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ বা ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর যদি দেখা যায় কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তা হলে তার জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াফত হবে। 

সেই হিসাবে মেয়রপ্রার্থীদের জামানত টিকিয়ে রাখতে ২৪ হাজারের বেশি ভোট পেতে হবে। কিন্তু পাঁচ প্রার্থীর কেউ-ই এ পরিমাণ ভোট পাননি। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২  ভোটারের বিপরীতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এক লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৭ জন, যা সিলেট নগরীর মোট ভোটারের ৬১.৭৫ শতাংশ। সেই হিসাবে জামানত টিকিয়ে রাখতে প্রার্থীদের ১৬ হাজারের মতো ভোট পেতে হতো। 

কিন্তু ঘোষিত ফলে দেখা যায়, নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টেবিল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ৯৫৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন দুই হাজার ১৯৫ ভোট, সিপিবি-বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর মই প্রতীকে পেয়েছেন ৯০০ ভোট, নাগরিক কমিটির প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বাসগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৮২ ভোট এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রার্থী মো. এহসানুল হক তাহের হরিণ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৯২ ভোট।

এ ছাড়া স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৮৭৭ জন। স্থগিত দুই কেন্দ্রের সব ভোট পেলেও এই পাঁচ প্রার্থীর কারোরই জামানত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।