নির্বাচন কমিশনে কারচুপির অভিযোগ করলেন বুলবুল

  রাজশাহী ব্যুরো ৩১ জুলাই ২০১৮, ২১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

নানা অভিযোগে ভোট কেন্দ্রের বাইরে মাঠে বসে পড়েন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির আবারও অভিযোগ আনলেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাসিক নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলামের কাছে মঙ্গলবার এ অভিযোগপত্র দায়ের করা হয় বলে সন্ধ্যায় মহানগর বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বুলবুল ১৩টি কারণ উল্লেখ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তার দফতর, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রকাশ্যে অনিয়ম, বেআইনি কার্যকলাপ এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। যেগুলো লিখিতভাবে বারবার জানানো হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন করেছে আপনার দফতর (রিটার্নিং কর্মকর্তার)। আর সরকারদলীয় প্রার্থীর পছন্দমতো বেছে বেছে কট্টর আওয়ামীপন্থী প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। লিখিতভাবে আবেদন করার পরও নির্বাচন কমিশন থেকে তার তালিকা দেয়া হয়নি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৩০ জুলাই নির্বাচনের দিন প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ প্রশাসন, সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকরা যৌথ ও বেআইনিভাবে ৩৭টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের গ্রহণ করেনি এবং তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এছাড়া সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তারা আরও ৭৭টি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের জোর করে বের করে দিয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসাররা এজেন্টদের ব্যালট বাক্স ও ব্যালটপেপারের হিসাব দেয়নি এবং তাদের কাছে রক্ষিত ফর্মে আমাদের এজেন্টদের স্বাক্ষরও নেয়নি, যা নির্বাচনী নিয়মের পরিপন্থী। ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে যেসব এলাকায় বিএনপির ভোটার বেশি এ রকম ২০টি ওয়ার্ডে ভোটারদের মেরে বের করে দেয়া হয়।

অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে- কোথাও কোথাও দুপুর ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে ভোটারদের তাড়িয়ে দেয়া হয় যা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি এবং নির্বাচন বিধিমালা এবং সংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। প্রায় ১০-১১টি কেন্দ্রে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে ভোট গ্রহণকালে দেখা যায় ব্যালটপেপার শেষ হয়ে গেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে সেগুলো দিয়ে জালভোট দেয়া হয়। পরবর্তীতে ভোটাররা মেয়র পদের ব্যালট ছাড়াই শুধুমাত্র কাউন্সিলর পদের ব্যালটে ভোট দেয়।

এছাড়াও সকাল ১১টায় প্রায় ৩৫টি, ১২টায় মোট ৪৮টি এবং দুপুর ১টার মধ্যে ১৩৮টি কেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বলপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ বিভাগ এবং আওয়ামী লীগ যৌথভাবে ৮২টি কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে দখল করে নেয়। তারা সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে নজিরবিহীন জালিয়াতি শুরু করে। বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের প্রায় ৫০ জন কর্মীকে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে লাঞ্ছনা ও মারধরের শিকার হতে হয়। যাদের মধ্যে ২ জনসহ আরও ৬-৭ জনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতের মধ্যে রয়েছেন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মী রকি ও রাকিব।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে আংশিক ব্যালটভর্তি বাক্স প্রিসাইডিং অফিসারের বুথ থেকে পুলিশের সহযোগিতায় পোলিং এজেন্টদের বাধা উপেক্ষা করে জালভোট দেয়া হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকাল ৪টায় প্রিসাইডিং অফিসার এবং পুলিশ আমাদের সব এজেন্টকে বের করে দিয়ে ব্যালটপেপার, ব্যালট বাক্স নিজ হেফাজতে নেয় এবং ব্যাপকভাবে জালভোট দেয়। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আপনার দফতর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এসব অভিযোগ ছাড়াও আরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সপক্ষে দাবি ও তথ্যপ্রমাণাদি আছে যা তদন্ত বা বিচারকালে উপস্থাপন করা হবে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দ আমিরুল ইসলাম এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা ফোন না ধরায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাপ্রবাহ : রাজশাহী-বরিশাল-সিলেট সিটি নির্বাচন ২০১৮

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter