দুই স্ত্রীর টানাহেঁচড়ায় ঘরে পচল আইনজীবীর লাশ

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ৩১ জুলাই ২০১৮, ২১:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

দুই দিন ঘরে পড়ে রয়েছে আইনজীবীর লাশ

মরেও যেন শান্তি পেলেন না সাতক্ষীরার বিশিষ্ট আইনজীবী মো. ইয়ার আলি (৮০)। ষষ্ঠবারের মতো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে মারা যান তিনি।

পরে তাকে নিয়ে আসা হয় সাতক্ষীরার বাড়ি কলরোয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে। তবে বাড়িতে আনার পর ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও তার দাফনের কাজ সম্পন্ন হয়নি। পারিবারিক জটিলতায় আটকে আছে তার দাফনের কাজ। এরই মধ্যে তার লাশে পচন ধরেছে।

মঙ্গলবার বিকালেও আইনজীবীর লাশ ছিল তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে। দাফনে বাধা দিয়েছেন প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও তার ছেলেমেয়েরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট ইয়ার আলির দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী জোহরা খাতুনের চার মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছেন। অপরদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী শাহিদা খানমের রয়েছে একমাত্র ছেলে প্রিন্স।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়ার আলি তার জীবদ্দশায় তার নামীয় ৩০ বিঘারও বেশি সম্পত্তি, কোটি টাকার ওপরের ব্যাংক ব্যালান্স এমনকি বসতবাড়ির পুরোটাই তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও ছেলে প্রিন্সের নামে লিখে দিয়েছেন। জমি বাড়ি ও গচ্ছিত টাকার এক কড়িও পাননি তার প্রথমপক্ষের স্ত্রী ও তার সন্তানরা।

অ্যাডভোকেট ইয়ার আলির মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি ও টাকাকড়ির দাবি করেছেন প্রথমপক্ষের স্ত্রী ও তার সন্তানরা। এসব না পাওয়া পর্যন্ত তারা ইয়ার আলিকে দাফন করতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এরই মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য তার বাড়িতে গেছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেনসহ আইনজীবীদের একটি দল। একই সঙ্গে সেখানে বারবার গেছেন কলারোয়া থানার ওসি মারুফ আহম্মদ এবং স্থানীয় কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনসহ অনেকেই। তারা বিষয়টি সমঝোতামূলকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

ফলে মঙ্গলবার বিকাল নাগাদও তাকে দাফন করা হয়নি। এরই মধ্যে মরদেহে পচন ধরতে শুরু করেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয় কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন জানান, লাশের পেট ফুলে গেছে। নাক ও কান বেয়ে রক্ত আসছে। দুর্গন্ধ ছুটছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলির প্রথমপক্ষের স্ত্রী জোহরা খাতুনের ছেলে অ্যাডভোকেট হাসনাত কবির বলেন, মা ও তার চার মেয়ে এবং আমাকে সহ প্রথমপক্ষের সবাইকে জমি টাকা ও বাড়ির স্বত্ব থেকে বঞ্চিত করে গেছেন আমার বাবা। তিনি আমাদের কাউকে এক কানাকড়িও দেননি। তিনি তার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় পক্ষের মা ও তার ছেলে প্রিন্সকে দিয়ে গেছেন। এতেই আমরা ক্ষুব্ধ। সহায়সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ আমাদের নামে না দেয়া পর্যন্ত তার লাশ দাফন করতে দেয়া হবে না।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বারবার চেষ্টা করেও দাফনে নিজের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইমরান হোসেন বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড়।

তিনি বলেন, প্রথম পক্ষ বলছে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক তাদের কিছু সম্পদ দিতে হবে। অপরদিকে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও তার সন্তানদের দাবি প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলিকে গত ৩২ বছর ধরে সেবা দিচ্ছেন তারা। এজন্য তিনি সন্তুষ্ট হয়ে সব কিছু তাদের নামে দিয়ে গেছেন। এর থেকে এক শতক জমিও আমরা দেব না।

চেয়ারম্যান জানান, গ্রামের ৯৯ শতাংশ মানুষ চায় প্রথমপক্ষকে কিছু সম্পদ দিতে। কিন্তু তাদের চাওয়াও নিষ্ফল হয়ে গেছে। তবে দ্বিতীয় পক্ষের দাবি প্রয়াত ইয়ার আলি তার পৈতৃক জমির পুরোটাই প্রথম পক্ষকে দিয়ে গেছেন। তবে নিজের উপার্জিত অর্থ ও সম্পদের কোনো অংশ তাদের দেননি।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষ সাড়ে সাত বিঘা জমি নিজেদের নামে রেখে বাকিটা ভাগবাটোয়ারা করে দিতে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লেখালেখি চলছে। এটি হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে কলারোয়া থানার ওসি মারুফ আহম্মদ জানান, প্রয়াত আইনজীবী ইয়ার আলির দাফন সম্পন্ন করার নির্দেশ চেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছে। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে যথাযথ নির্দেশ পেলে প্রয়োজনে পুলিশ তাকে ইসলামি শরিয়ত মতে দাফন করার ব্যবস্থা করবে।

এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমি সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হয়ে দাফনের নির্দেশ পেয়েছি। এই নির্দেশের কপি কলারোয়া থানায় পৌঁছালেই পুলিশ তার দাফনের ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter