পুলিশের গায়ে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে আন্দোলনে রংপুরের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

  রংপুর ব্যুরো ০২ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

আন্দোলনে রংপুরের শিক্ষার্থীরা
আন্দোলনে রংপুরের শিক্ষার্থীরা। ছবি: যুগান্তর

নিরপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান আর পোস্টার প্লাকার্ড হাতে পুলিশের গায়ে গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে আন্দোলনে নেমেছে রংপুরের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচারসহ নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় ৯ দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশি বাধা উপক্ষো করে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক দফায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন। এতে করে রংপুর-ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচির কথা জেনে সকাল থেকেই পুলিশ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থান নেন। তারা শিক্ষার্থীদের কোথাও একসঙ্গে হতে না দেয়ায় রংপুর টাউন হল প্রজন্ম চত্বরে একজোট হয়ে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উত্তাল স্লোগানে মুখরিত মিছিলটি নগরীর জিলা স্কুল মোড়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরে পৌঁছলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখানে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন সমাবেশ শুরু করলে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও তাতে যোগ দেয়।

মানববন্ধন শেষ না করেই বিশাল একটি মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে শাশ্বত বাংলা হয়ে মেডিকেল মোড় এলাকায় গিয়ে রংপুর-ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে।

এ সময় বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত পোস্টার প্লাকার্ড আর গোলাপ ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তারা আন্দোলনে সাধারণ জনগণকে সিক্ত করে। শিক্ষার্থীদের ফুলে ফুলে সিক্ত হয় পুলিশ সদস্যরাও।

স্লোগানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে আসেন সাধারণ মানুষরাও। এ সময় বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে সংহতি জানান।

সেখানে তারা ‘চাইলাম বিচার পাইলাম ছুটি, নিরাপদ সড়ক চাই, জাগো বাহে কোনটে সগায়, আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, আমার ভাই কবরে অপরাধী বাহিরে’ লেখাসহ নয় দফা দাবি আদায়ের পক্ষে শত শত পোস্টার ও প্লাকার্ড নিয়ে সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন।

এতে পুরো মহাসড়কে যানবাহন চলাচল থমকে যায়। দীর্ঘ হতে থাকে আটকেপড়া গাড়ির বহর। এতে করে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে উত্তরের জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জরুরি পরিবহনসহ অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত গাড়ি পারাপারে সহযোগিতা করেন। তারা নিজেরাই বৃদ্ধ, শিশু, অসুস্থ মহিলা-পুরুষসহ সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার করিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই সেখানে বাস, পিকআপভ্যান, অটোরিকশার চালককে বেপরোয়াভাবে যানবাহন না চালানোর পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি তাদের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রবিউল ইসলাম, নির্বাহী মেজিস্ট্রেট আবুল হায়াত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মারুফ হোসেন, ফজলে এলাহি, সাইফুর রহমান সাইফ, রংপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তারুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter