'বড়পুকুরিয়ায় কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনার সত্যতা আছে বলেই মামলা হয়েছে'

  দিনাজপুর প্রতিনিধি ০৬ আগস্ট ২০১৮, ২০:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি। ফাইল ছবি

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা আছে বলেই মামলা হয়েছে। এটা ধরেই নিতে হবে এই ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা আছে, সেই প্রেক্ষিতেই মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলেই এটা কীভাবে হয়েছে এবং কারা করেছে, তা বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের পরিচালক (প্রশাসন) কাজী শফিকুল আলম।

সোমবার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার মে.টন কয়লা লোপাট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সরেজমিনে তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।এর আগে গত রোববার সকালে দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত দল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় প্রবেশ করে। গত দু’দিনে তারা কয়লা ইয়ার্ড, উত্তোলনকারী ফেসসহ প্রতিটি স্পট পরিদর্শন করেন।

দুদকের তদারকি কর্মকর্তা কাজী শফিকুল আলম জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে এবং নতুন কিছু কাগজ চাওয়া হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ শেষে নতুন কাউকে অভিযুক্ত করা হবে কি না এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সেই সঙ্গে কয়লা চুরির ঘটনায় জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তদের চিঠি দেয়া হবে। এরপরই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাজী শফিকুল আলম জানান, যারা জড়িত তারা এখনও বহাল থাকাতে কোনো সমস্যা হবে না। অলরেডি যারা মূল জড়িত তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডকুমেন্টস গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবেন। আরও ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে-আগামী ২ দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা লোপাটের ঘটনায় খনির সদ্য অপসারণকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত ২৪ জুলাই পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপক প্রশাসন মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, খনি উন্নয়নের সময় ২০০১ সাল থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪২ দশমিক ৩৩ মে.টন কয়লা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত কয়লা থেকে পার্শ্ববর্তী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ দশমিক ২৯ মে.টন কয়লা সরবরাহ, বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ডিও’র মাধ্যমে ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ দশমিক ৩৭ মে.টন কয়লা বিক্রয় এবং কয়লা খনির বয়লারে ১২ হাজার ৮৮ দশমিক ২৭ মে.টন কয়লা ব্যবহার করা হয়।

কয়লার উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবহার হিসাব করলে ১৯ জুলাই কোল ইয়ার্ডে রেকর্ডভিত্তিক কয়লার মজুদ দাড়ায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মে.টন কয়লা। কিন্তু বাস্তবে মজুদ ছিল প্রায় ৩ হাজার মে.টন কয়লা। অর্থাৎ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মে.টন কয়লা চুরি/ঘাটতি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা।

মামলায় আসামি করা হয়-বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাময়িক বরখাস্তকৃত মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নুর-উজ্জামান চৌধুরী ও উপমহাব্যবস্থাপক (স্টোর ডিপার্টমেন্ট) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্য অপসারণকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিবউদ্দীন আহম্মেদ, সদ্য বদলিকৃত কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মো. মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক ( জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক ( প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইন্ট্যন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন,কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) জাহিদুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক (সেইফটি ম্যানেজম্যান্ট) মো. একরামুল হক, উপব্যবস্থাপক ( কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপব্যবস্থাপক (মেইন্ট্যন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. মোর্শেদুজ্জামান, উপব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. হাবিবুর রহমান, উপব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) মো. জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক ( ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্রনাথ বর্মণ, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান, উপমহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. জোবায়ের আলী, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী ও মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা।

পার্বতীপুর মডেল থানা মামলা তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন দিনাজপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে প্রেরণ করে। দুদক দিনাজপুর কার্যালয় মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করে।

ঘটনাপ্রবাহ : বড়পুকুরিয়ায় কয়লা গায়েব

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.