কিশোরগঞ্জে এমপির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগ, আমলে নেননি আদালত

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ০৭ আগস্ট ২০১৮, ২০:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদি-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোরহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নেননি আদালত।

মঙ্গলবার তার বিরুদ্ধে যুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, নারী নির্যাতন এবং এ ধরনের অপরাধে নেতৃত্ব, সহযোগিতা, প্ররোচনা ও উসকানি দেয়ার ঘটনায় কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলী নামে এক মুক্তিযোদ্ধা।

তবে এখতিয়ারবহির্ভূত হওয়ায় কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিজ্ঞ বিচারক ধীমান চন্দ্র মণ্ডল অভিযোগ আমলে নেননি বলে আদালত সূত্র জানায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমপি সোহরাবের মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী।

পরে এমপি সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশ সোমবার পাকুন্দিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবব্ন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার অওলিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আবদুস সালামের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী আদালতে দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, উপজেলার পাটুয়া ভাঙ্গা দগদিগা গ্রামের মৃত ওয়াহাব আলীর ছেলে বর্তমান এমপি মো. সোহরাব উদ্দিন মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগে অভিযুক্ত। তিনি একজন রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী এবং স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান এবং তৎকালীন পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন ইসলামী ছাত্রসংঘের সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সোহরাব উদ্দিনের চাচা মোহাম্মদ আলী ছিলেন পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৎকালীন চেয়ারম্যান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভাতিজা সোহরাব উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরের আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত রাজাকার ক্যাম্পে থাকতেন। ওই সময় মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে সোহরাব উদ্দিন পাটুয়াভাঙ্গা এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে যুবক ছেলেদের প্ররোচনা ও প্রলোভন দিয়ে কৌশলে আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যেতেন।

পরে সেখান থেকে ওই লোকজনকে প্রশিক্ষণ করিয়ে এলাকায় নিয়ে সোহরাব উদ্দিন রাজাকারদের উসকানি দিয়ে হিন্দুবাড়ি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন হাটবাজারে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন। ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে মোহাম্মদ আলী রাজাকারদের নিয়ে সতেন্দ্র মোহন মজুমদারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে মূল্যবান আসবাব, স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যান। পরে তাদের পরামর্শে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সত্য বাবুকে হত্যা করে।

এ সময় সোহরাব উদ্দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। আর এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সাক্ষী হিসেবে তিনি এলাকার ২০ জনের নাম উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে সাংসদ মো. সোহরাব উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি যুগান্তরকে জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মোহাম্মদ আলি ব্যক্তিগত আক্রোশের জের ধরে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনেছেন।

তবে তার চাচা এসবে জড়িত ছিলেন একথা সবাই জানে বলে তিনি স্বীকার করেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter