আ’লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় এমপি রানার জামিন প্রার্থনা

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ০৮ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান

আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় কারাবন্দি আওয়ামী লীগদলীয় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা বুধবার জামিন প্রার্থনা করেছেন।

আদালত জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে ৫ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে রায় দেয়ার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানের আদালতে সকালে এমপি রানা জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

জামিন শুনানিতে তার পক্ষে অংশ নিয়ে আইনজীবী আবদুল বাকী মিয়া, আরফান আলী মোল্লা ও টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বারের সভাপতি ফারুক আহমেদ আদালতকে জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে এমপি রানা কারাগারে আছেন। তিনি জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য। কারাগারে থাকায় তার নিজ এলাকা টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়।

এসব কারণে জামিন চেয়ে আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, জামিন মঞ্জুর করা হলে মুক্তি পেয়ে তার পালিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম, আব্দুল গফুর ও হুমায়ুন কবির।

তারা আদালতকে জানান, এই মামলায় দুজন আসামি এবং তিনজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডে এমপি আমানুর রহমান খান রানার প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার কথা উঠে এসেছে। মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায় রয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি জামিন পেলে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাতে পারে। এতে সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে।

মনিরুল ইসলাম খান জানান, সকালে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার ধার্য তারিখে জামিনের বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ আছেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের জাড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

এই মামলায় আমানুর ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে। গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter