ভাঙনে নিখোঁজ ১০ জনের সন্ধান মেলেনি, পদ্মার পাড়ে স্বজনদের আহাজারি

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি ০৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

পদ্মা নদীতে নিখোঁজ স্বজনদের আহাজারি
পদ্মা নদীতে নিখোঁজ স্বজনদের আহাজারি। ছবি: যুগান্তর

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর হঠাৎ ভাঙনে সাধুর বাজার লঞ্চঘাটে নিখোঁজ ১০ জনের সন্ধান মেলেনি এখনো।

গত দুদিনেও কাউকে উদ্ধার করতে পারেনি শরীয়তপুরের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। তারা নৌকা ট্রলার নিয়ে সন্ধান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নিখোঁজ, ৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন, ২টি ট্রলি, একটি মাহেন্দ্র নিয়ে একটি লঞ্চঘাট পল্টুনবিলীন হওয়ার ঘটনায়

এ দিকে স্বজনরা পদ্মাপাড়ে নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ভিড় করছে। ধসের খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীয়তপুর জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন পদ্মায় জড়ো হচ্ছে।

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ঈমাম হোসেন দেওয়ান জানান, গত দুই দিন ধরে পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। হঠাৎ করে মঙ্গলবার দুপুরে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের সাধুর বাজার লঞ্চঘাট এলাকার বিশাল অংশ নিয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় ৪০ জন মানুষ নদীতে ভেসে যোয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দর্শনার্থী ও আবার কেউ কেউ দোকানপাট মালামাল সরিয়ে নেয়ার কাজে নিয়োজিত ছিল। এছাড়া ৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ২টি ট্রলি, একটি মাহেন্দ্র, ৩টি মোটরসাইকেলসহ মুহূর্তেই নদীতে ধসে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ডুবে যাওয়া প্রায় ৪০ জনের মধ্যে ১৭ জন উদ্ধার ও বাকিরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও এখনও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে। গত দুই দিনেও কোনো লাশ উদ্ধার করতে পারেনি ডুবুরি দল। তবে ফায়ার সার্ভিসসের ডুবুরি দল নিখোজদের উদ্ধারে বিরামহীন পদ্মার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছেন।

এদিকে ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকাল থেকেই নিখোঁজদের স্বজনসহ হাজার হাজার উৎসুক জনতা নড়িয়ার সাধুর বাজার এলাকায় ভিড় জমাচ্ছে। নিখোজ স্বজনদের আহাজারিতে পদ্মার পাড়ের বাতাশ ভারি হয়ে উঠছে।

নিখোঁজরা হলেন, পাচুখার কান্দি গ্রামের মোশারফ চোকদার, বাড়ৈ পাড়া গ্রামের জামাল ছৈয়াল, কেদারপুর গ্রামের মজিবর (মজু) ছৈয়াল, শাহজাহান বেপারী, মোক্তারচর এলাকার রশিদ হাওলাদার, চাকধ গ্রামের নাছির হাওলাদার, নাছির করাতি, পিরোজপুরের আইটেল মোবাইল কোম্পানির এরিয়া সেলস এক্সিকিউটিভ শেখ আলামিন হাসান, অন্ত মকদম, উত্তর কেদারপুর গ্রামের গুপি দাস।

ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে নেমে প্রবল স্রোতের জন্য উদ্ধারকাজ করতে ব্যর্থ হয়ে তীরে বসে থাকে। তারা নৌকা ট্রলারযোগে নদীর এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হন্যে হয়ে খুঁজছে।

এখন ধীরে ধীরে পদ্মার ভাঙনের তীব্রতা বেড়েই চলছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পদ্মাপাড়ের মানুষ। তারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে দিনরাত পরিশ্রম করছে। দ্রুত ভাঙনরোধের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একে এম এনামুল হক শামিম প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিখোঁজ স্বজনদের ১০ হাজার করে টাকা অনুদান দিয়েছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শরীয়তপুরের জাজিরা-নড়িয়া এলাকার পদ্মার ভাঙনরোধে যা করণীয় তাই করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মার ভাঙনরোধে গত ২ জানুয়ারি পদ্মার দক্ষিণ তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা একনেকের বৈঠকে পাস হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হবে বলে পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বাস দেন তিনি।

এ সময় শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের, নড়িয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা ইয়াসমিন, নড়িয়া পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ি, সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন দেওয়ান, সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক মানিক সরকার, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক জহির সিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিখোঁজ শাহজাহান বেপারীর মেয়ে শাহনাজ বেগম বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই পদ্মার ভাঙন বেড়ে যায়। এ সময় সাধুরবাজার লঞ্চঘাট বিলীন হয়ে যায়। আমার বাবা একজন রিকশাচালক। তিনি দোকানপাট সরানোর কাজে সহায়তা করতে এসে নিখোঁজ হয়ে যায়। তার কোনো সন্ধান পাইনি। আমার একটি বোন ও একটি ভাই প্রতিবন্ধী। আমরা কী করে ওদের নিয়ে বাঁচব।

পিরোজপুরের রুহুল আমিন বলেন, আমার ভাই শেখ আল আমিন হাসান আইটেল মোবাইল কোম্পানির সেলস এক্সিকিউটিভ। তিনি এ এলাকায় মার্কেটে ভিজিটে এসে ভাঙন দেখতে যায়। এ সময় হঠাৎ মাটি দেবে গেলে পানির স্রোতে হারিয়ে যায়। তার কোনো সন্ধান পাইনি।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ বলেন, লঞ্চঘাট এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর খবর পেয়ে আমরা উদ্ধার অভিযানে ডুবুরি দল নদীতে নামানোর পর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসি। নৌকা ও ট্রলারযোগে সন্ধান কাজ চলছে। আমাদের কাছে তালিকা অনুযায়ী এখনো ১০জন নিখোঁজ রয়েছে।

নড়িয়া থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, স্বজনদের দাবি অনুযায়ী এখনও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ করতে পারছেন না ডুবুরিরা। নৌকা ও ট্রলারযোগে সন্ধান কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলার কাজে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter