জয়পুরহাটে এটিএম বুথ লুট করতে না পেরে নৈশপ্রহরীকে খুন

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ২০:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট শহরের ব্যস্ততম বাটার মোড় এলাকায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির চেষ্টাকালে ওই বুথের রাত্রিকালীন নিরাপত্তাকর্মীকে ধারালো ছুরি দিযে কুপিয়ে হত্যা করেছে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। তবে ওই এটিএম বুথের ভেতরে ভাঙচুর ও তছনছ করলেও  সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা ভল্ট থেকে কোনো টাকা লুট করতে পারেনি বলে দাবি ওই ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শাহজালাল সরকারের।

এটিএম বুথের নিহত নিরাপত্তাকর্মী শফিকুল ইসলাম (৩৩) পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুরের বামনপাড়া গ্রামের আব্দুল মোতালিবের ছেলে।

শুক্রবার বিকালে ওই এটিএম বুথের একই বিল্ডিংয়ের ওপরের তলায় অবস্থিত রিফাত এগ্রো নামের একটি ফিডের অফিসের বাথরুম থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মৌসুমি মার্কেটের নিচতলায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথে এ ঘটনা ঘটে।

জয়পুরহাট সদর থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান,‘ শুক্রবার সকাল ৮টায় বদলি নিরাপত্তাকর্মী  খায়রুল ইসলাম মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ওই এটিএম বুথে ডিউটিতে এসে  বুথটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখে তার সন্দেহ হলে  বিষয়টি মোবাইল ফোনে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শাহজালাল সরকারকে জানান।

শাহজালাল সরকার (ব্যবস্থাপক) সঙ্গে সঙ্গে এটিএম বুথে গিয়ে চাবি খুলে ভেতরে ঢুকে বুথে ভাঙচুর করা দেখে ডাকাতির ঘটনা আঁচ করে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বুথের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করলেও ভল্ট ভাঙতে পারেনি বিধায় কোনো টাকা লুট করে নিয়ে যেতে পারেনি বলে প্রাথমিক ধারণা করেন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক শাহজালাল সরকার।

তবে তিনি জানান,আগামী রোববার ঢাকা থেকে হেড অফিসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে গোপন পাসওয়ার্ড দিয়ে এ এটিএম বুথের ভল্ট খুললে টাকা লুট হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাবে’।

রাতে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাকর্মী শফিকুল ইসলাম ছিল রহস্যজনক নিখোঁজ। এটিএম বুথের ভেতরে তার ইউনিফর্ম পরে থাকলেও কোথাও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে  ওই এটিএম বুথের ওপরের তলায় অবস্থিত রিফাত এগ্রো নামের একটি ফিডের অফিসের বাথরুম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদের ডাকাতির কাজে বাধা দেয়া বা অসহযোগিতা করার অপরাধে তাকে জীবন দিতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।