জলঢাকায় পাচারকালে ভিজিএফের ২৪৬ বস্তা চাল আটক

  ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

ধর্মপাল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জামিয়ার রহমানকে গ্রেফতারসহ বিচার দাবিতে বিক্ষোভ

নীলফামারী ডোমার উপজেলায় রাতের আঁধারে পাচারকালে ভিজিএফের ২৪৬ বস্তা চাল আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বোড়াগাড়ী বাজার এলাকায় একটি ট্রাক্টরের ট্রলিতে ওই চাল পাচারকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা ধাওয়া করে তা আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

এ সময় ট্রাক্টরের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে ট্রাক্টরের ট্রলিসহ ওই সব চাল জব্দ করে ডোমার থানায় নিয়ে যায়।

চালগুলো জেলার জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী জানায়, ওই ইউনিয়নের আরও ৩০০ বস্তা চাল ওই রাতে সোলেমানের চৌপথী দিয়ে পাচার করা হয়েছে, যা আটকের জন্য লোকজন ধাওয়া করলে তা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকালে জলঢাকা উপজেলা প্রশাসন তদন্তে নেমেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদ মিয়াসহ অন্যরা ধর্মপাল ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তদন্ত করতে দেখা যায়।

সেখানে শত শত মানুষজন ধর্মপাল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জামিয়ার রহমানকে চাল পাচারকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেছে।

জানা গেছে, পাচারকালে আটককৃত ২৪৬ বস্তা চাল প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে ছিল। এতে চালের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৮ টন, যার বাজারমূল্য দুই লাখ ৮৯ হাজার ২৯৬ টাকা।

সূত্রমতে, সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি আওতায় কোরবানি ঈদকে সামনে ভিজিএফ কার্ডধারীরা এবার ১০ কেজির পরিবর্তে ২০ কেজি করে চাল পাবে। নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলার ৬০ ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৫ কার্ডধারী পরিবারের জন্য ৮ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০০ টন চাল বরাদ্দ দেয়।

এর মধ্যে ধর্মপাল ইউনিয়নের জন্য ৬ হাজার ৩৭৫ কার্ডের বিপরীতে ১২৭ দশমিক ৫০০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে ইউপি চেয়ারম্যান ওই চাল জলঢাকা খাদ্যগুদাম হতে উত্তোলন করেন।

এ ব্যাপারে ধর্মপাল ইউপি চেয়ারম্যান জামিয়ার রহমান বলেন, তিনি চাল পাচার করেননি। বৃহস্পতিবার তিনি ১ হাজার ৪৭৫ কার্ডের বিপরীতে চাল বিতরণ করেন ২৯ দশমিক ৫ টন।

তবে ইউপি চেয়ারম্যানের এই কথার প্রতিবাদ করে এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যান বিকালে মাত্র ৩০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন না ট্যাক কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার রাতে ডোমারে চাল আটকের খবরে গভীর রাতে চেয়ারম্যান বাইরে থেকে খোলা বস্তা সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে নিয়ে এসে রাখে। যা চাল বিতরণের প্রমাণ দেখানোর চেষ্টা করছেন ইউপি চেয়ারম্যান। এলাকাবাসী ইউপি চেয়ারম্যানের বিচার দাবি করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter