তাহিরপুরে সন্তান প্রসবে দুই পল্লী চিকিৎসকের কাণ্ড!

  তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ১১ আগস্ট ২০১৮, ১৭:২১ | অনলাইন সংস্করণ

সুনামগঞ্জের ম্যাপ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দুজন পল্লী চিকিৎসক ব্লেড দিয়ে জরায়ু কেটে সন্তান প্রসব করানোর পর মারা গেছে নবজাতকটি। এছাড়া প্রসূতি মা শৌমরী বর্মণের (২২) অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

শনিবার উপজেলার বালিজুরী মডেল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

শৌমরী বর্মণ ওই ইউনিয়নের বড়খলা গ্রামের সুজিত বর্মণের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার প্রসব ব্যথা উঠলে গ্রামের পল্লী চিকিৎসক লালমোহন বর্মণ ও পার্শ্ববর্তী বালিজুরী গ্রামের পল্লী চিকিৎসক নুরুল আমিনকে ডাকা হয়।

প্রসূতিকে দেখে তারা গর্ভে থাকা নবজাতককে মৃত বলে দ্রুত গর্ভপাত ঘটানোর পরামর্শ দেয়। এ সময় ওই গ্রামের ধাত্রী রাজু বেগম ও প্রসূতি নিজে বাধা দিয়ে জানান, সন্তান মৃত নয় জীবিত আছে, এমনকি পেটের ভেতর নড়াচড়াও করছে।

এক পর্যায়ে ওই দুই পল্লী চিকিৎসক ব্লেড দিয়ে জরায়ুর মুখ কেটে নবজাতককে বের আনলে মাথার বেশ কিছু অংশ কেটে যায়। তড়িঘড়ি করে চিকিৎসকরা নবজাতকের মাথায় ৫টি ও শৌমরী বর্মনের অধিক রক্তক্ষরণ হলে তার জরায়ুর মুখে ১৭টি সেলাই করেন।

এদিকে পরিবারের লোকজন নবজাতক নড়াচড়া করছে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে প্রসূতি মা ও নবজাতককে পাশ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাবার পথেই নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় প্রসূতি মাকে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

শৌমরী বর্মণের স্বামী সুজিত বর্মন বলেন, আমরা সুনামগঞ্জে যেতে চাইছিলাম, কিন্তু স্থানীয় ওই দুই পল্লী চিকিৎসক ধমক দিয়ে বলে নবজাতক গর্ভেই মারা গেছে। এরপর তড়িঘড়ি করে কোনো প্রকার সম্মতি ছাড়াই ব্লেড দিয়ে জরায়ু কেটে জীবিত সন্তান প্রসব করায়।

তিনি বলেন, যদি মৃত সন্তানই প্রসব হয়ে থাকে তবে প্রসবের পর কেন তার মাথায় ৫টি সেলাই দেয়া হল?

লালমোহন বর্মণ এলএমএএফ কোর্সে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি নিজেদের একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দাবি করে বলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসাবে নুরুল আমিন বাচ্চা ও প্রসূতিকে সেলাই করা থেকে শুরু করে সবকিছুই করেছেন, আমি ওনাকে সহযোগিতা করেছি পরে জেনেছি বাচ্চাটিকে বিশ্বম্ভরপুর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেছে।

উপজেলার বালিজুরীর নুরুল আমিন ১৯৭৯ সালে একবছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ নিয়ে গত ৪৫ বছর ধরে এলাকায় ডাক্তারী করছেন। শনিবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, মহিলার গর্ভে থাকা বাচ্চা আগেই মৃত ছিল, আমি ব্লেড নয় ফরসেফ দিয়ে বাচ্চা বের করেছি। বাচ্চার মাথা ও মহিলার জরায়ুর মুখ সামান্য কেটেছিল তাই সেলাই দিয়েছি।

মৃত বাচ্চার মাথায় কেন সেলাই দিলেন? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে কথাটি এড়িয়ে যান ওই ডাক্তার।

এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর খবর পেয়ে খবর পেয়ে বুধবার উপজেলার বড়খলা গ্রামে সরেজমিনে ঘটনার তদন্তে সত্যতা খুঁজে পান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেনসহ অপর দুজন চিকিৎসক।

সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. বিশ্বজিৎ গোলদারের শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ব্লেড দিয়ে প্রসূতির জরায়ু কেটে সন্তান প্রসব করানো কোনোভোবেই চিকিৎসার মধ্যে পড়ে না। এটা কসাইয়ের শামিল।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter