নওগাঁয় ঋণের বোঝায় ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

  নওগাঁ প্রতিনিধি ১২ আগস্ট ২০১৮, ২১:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁ ম্যাপ

নওগাঁয় বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে না ঋণদাতাদের চাপে এক ব্যবসায়ীর ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

নিহত সুলতান মাহমুদ (৪২) নওগাঁ শহরের আরজি-নওগাঁ মধ্যপাড়ার ইয়াকুব আলী মণ্ডলের ছেলে।

রোববার ভোররাতে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুলতান মাহমুদের শহরের রুবির মোড়ে ‘সুলতান ইঞ্জি. ওয়ার্কশপ’ কারখানার দোকান আছেন। ব্যবসার সুবাদে প্রতিবেশী মবেলের স্ত্রী মনেক্কার কাছ থেকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সুদে ৫০ হাজার টাকা, শহরের দয়ালের মোড় ‘ভোরের আলো’ সমিতি থেকে ২ লাখ টাকা নেয়। এছাড়া আরও তিনটি সমিতি থেকে দিনে কিস্তি হিসাবে প্রায় ৩ লাখ টাকা সুদের ওপর নেয়া হয়। দিন হিসাবে সুদের টাকায় প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হতো। বর্তমানে ব্যবসা তেমন ভালো না হওয়ায় কেনাবেচাও তেমন হচ্ছে না। এ কারণে দাদন ব্যবসায়ী ও সমিতির লোকজন দোকানে এসে বিভিন্নভাবে চাপ দিত এবং অকথ্য ভাষায় কথা বলত।

এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভের বসে সুলতান মাহমুদ বাড়ির পাশে নাটাপাড়া মোড়ে শনিবার রাত ৯টার দিকে গ্যাসের ট্যাবলেট খায়। ওই সময় বাজারে থাকা কয়েকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে সঙ্গে সঙ্গে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয় এবং তার বাড়িতে খবর দেয়।

অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক অন্যত্র স্থানান্তর করার পরামর্শ দেয়। রাত ১টার দিকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোররাতে তিনি মারা যান। ঘটনার পর থেকে দাদন ব্যবসায়ীরা গাঢাকা দিয়েছে।

নিহত সুলতান মাহমুদের দোকানের ম্যানেজার সুরুজ আলী বলেন, দিনের কিস্তি হিসেবে তিনটি সমিতি থেকে দোকান মালিক সুদের ওপর টাকা নিয়ে ছিলেন। ব্যবসায় মন্দা থাকায় কিস্তি দিতে পারছিলেন না। এ কারণে দোকানে কিস্তি নিতে আসা লোকজন বিভিন্নভাবে চাপ দিত এবং খারাপ কথা শোনাত।

নিহতের ভাই মিঠু মণ্ডল বলেন, বড় ভাই সুদের ওপর টাকা নিয়ে ব্যবসা করত। এক সুদ ব্যবসায়ী টাকা পাবে বলেও বিভিন্ন কথা শুনিয়েছিলেন। এ কারণে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ওই সুদ ব্যবসায়ীকে দিয়ে দেয়। তবে সুদ ব্যবসায়ীদের চাপে সে গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter