ভাঙনের কবলে কমলনগর, তীররক্ষা বাঁধে এক মাসে তিনবার ধস

  রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

ভাঙনের কবলে কমলনগর, তীররক্ষা বাঁধে এক মাসে তিনবার ধস
কমলনগরে ভাঙনের কবলে তীররক্ষা বাঁধ। ছবি: যুগান্তর

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে গত এক মাসে তিনবার ধস নামে। এ নিয়ে গত এক বছরে ৮ বার বাঁধে ধস নামে। কয়েক দিন পরপর বাঁধে ধস দেখা দেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের বাঁধ নির্মাণ ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় এমনটি ঘটছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর।

রোববার রাতে কমলনগর মাতাব্বর হাট এলাকায় নির্মাণাধীন তীররক্ষা বাঁধের ৩ নম্বর পয়েন্টের উত্তর পাশে ১০০ মিটার, ৯ ও ১০ নম্বর পয়েন্টের দক্ষিণ পাশে ১০০ মিটার মিলে একরাতে প্রায় ২০০ মিটার ধস নামে।

সোমবার বিকালে লক্ষীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বাঁধের উত্তর পাশের ৫০ মিটার ধস দেখা দেয়। ১৫ জুলাই ভোররাতে বাঁধের দক্ষিণাংশের প্রায় দুইশ’ মিটারে ধস নামে।

স্থানীয়রা জানায়, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের দুই পাশের এলাকায় অব্যাহতভাবে ভাঙছে। আশপাশের এলাকায় ভাঙনের কারণে বাঁধ ধসে পড়েছে। গত বর্ষা মৌসুমেও ওই বাঁধে পাঁচবার ধস নামে। অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় বারবার বাঁধে ধস নামছে বলে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকে অভিযোগ করে আসছে।

এদিকে অনিয়মের প্রতিবাদ ও কমলনগর রক্ষায় আরও ৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গত ২৪ জুলাই মানববন্ধন করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকল্প ইনচার্জ মো. আফছার বলেন, রাতে জোয়ার ও তীব্র স্রোতে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়। জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বিশেষ ব্যাগ) ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুসা বলেন, নির্মাণাধীন বাঁধের অদূরে চর জেগে উঠেছে। যে কারণে পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। তীব্র জোয়ারের কারণে বাঁধের কিছু অংশে ধস দেখা দিয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

তিনি বলেন, ধস ঠেকাতে কাজ চলছে। ভাঙন প্রতিরোধে এক কিলোমিটার বাঁধ যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হলে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। ভাঙন প্রতিরোধে আরও সাড়ে ১৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে মেঘনা নদীর তীররক্ষা বাঁধের জন্য ১৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দকৃত টাকায় কমলনগরে এক কিলোমিটার, রামগতির আলেকজান্ডারে সাড়ে তিন কিলোমিটার ও রামগতিরহাট মাছঘাট এলাকায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ হওয়ার কথা। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন আলেকজান্ডার এলাকায় ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করে সাড়ে তিন কিলোমিটার সফলভাবে বাস্তবায়ন করে।

এদিকে ওই বরাদ্দের ৪৮ কোটি টাকায় কমলনগরে এক কিলোমিটার কাজ পায় নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি.। অর্থ বরাদ্দের দুই বছর পর ২০১৬ সালের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংকে দিয়ে কাজ শুরু করে। ওই বছর নিম্নমানের বালু ও জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের চাপের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনিয়মের প্রতিবাদ ও যথাযথভাবে কাজ করার দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন করে স্থানীয়রা।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter