নরসিংদীতে বাস-বরযাত্রীবাহী মাইক্রো সংঘর্ষে নিহত ৭

  নরসিংদী প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১০:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীতে বাস-মাইক্রো সংঘর্ষ
ছবি- যুগান্তর

নরসিংদীর শিবপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছে। আহত কমপক্ষে ১৫ জন। হতাহতরা সবাই বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার সোনাইমুড়ি টিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ও পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- প্রান্তিকা রাণী বর্মন (৬), স্নিগ্ধা রাণী বর্মণ (৫), বৃষ্টি রাণী বর্মণ (৬), সজল বর্মণ (২০), শুভ বর্মণ (৩০), সৌরভ বর্মণ (১২) ও ক্যামেরাম্যান সজল বর্মণ (২৫)। হতাহতরা সবাই চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মিতালী পরিবহনের একটি বাস ঢাকা থেকে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুরের সোনাইমুড়ি টিলা এলাকায় পৌঁছালে বাসের সামনের চাকা ফেটে যায়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসে থাকা স্নিগ্ধা রাণী বর্মণ, প্রান্তিকা রাণী বর্মণ, বৃষ্টি রাণী বর্মণ নামে তিন শিশু মারা যায়। বর-কনেসহ বাস ও মাইক্রোবাসের আরও ২১ যাত্রী আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে পাঠান।

হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সজল বর্মণ নামের আরেকজনকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত অবস্থায় ১৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেয়ার পথে শুভ বর্মণ, সৌরভ বর্মণ ও সজল বর্মণের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। আর এ কারণেই মাইক্রোবাসের যাত্রীদের হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। অপরদিকে যাত্রীবাহী বাস মিতালী পরিবহনের সামনের বাম পাশের চাকাটি ফেটে গেছে। আর বাসের সামনের কিছুটা অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা হতাহতদের মাইক্রোবাস থেকে বের করে মহাসড়কের পাশে রাখে। ওই সময় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে দুর্ঘটনায় আহত স্বজনরা।

বরপক্ষের স্বজন লক্ষণ বর্মণ জানান, চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল গ্রাম থেকে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি নরসিংদীর রায়পুরার নবোয়ারচর গ্রামে এসেছিল। রাতে বিয়ে শেষে সকালে কনেসহ গাড়িটি ফিরে যাচ্ছিল। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ইটাখোলা হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, মিতালি পরিবহন যাত্রীবাহী বাসটির সামনের চাকা ফেটে গেলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির উপড়ে উঠিয়ে দেয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বাসটিকে আটক করা গেলেও চালক পালিয়ে গেছে।

স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter