মঠবাড়িয়ায় বেড়িবাঁধে ধস, সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি

  মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ১৪ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

বেড়িবাঁধ ধসে পানি ঢুকছে গ্রামে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী সাপলেজা গ্রামের খেতাছিড়া বেড়িবাঁধে তিন স্থানে বাঁধ ধসে দুই গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে। এতে ওই ইউনিয়নের খেতাছিড়া জেলে পল্লীর সহস্রাধিক পরিবার তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, খেতাছিড়া বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি গ্রামে ঢুকছে। জোয়ারের পানিতে নদীর তীরবর্তী জেলে পল্লীর বসতঘর ও কৃষিজমি প্রায় ৪-৫ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে আমন বিজতলা ও পাকা ইরি ধানের ক্ষেত, সবজি বাগান, ১০টি মাছের ঘেরসহ প্রায় ৮০০ হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তিন দিন ধরে ওই দুই গ্রামের লোকজন চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

ক্ষেতাচিড়া সাবেক ইউপি সদস্য কবির হোসেন জানান, বলেশ্বর নদীর প্রবল জোয়ারের চাপে ক্ষেতাচিড়া বেড়িবাঁধের দুটি অংশে ও কচুবাড়িয়া একটি অংশে ধস দেখা যায়। পানিবন্দি সহস্রাধিক পরিবার গত তিন দিন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

ক্ষেতাচিড়া গ্রামের মাছ চাষি মিলন ঘরামী জানান, জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামের ১০টি ঘেরসহ গ্রামের মাছ চাষের ৫০টি পুকুর পানিতে ডুবে যায়। এতে মাছ চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে বলেশ্বর নদী তীরবর্তী খেতাছিড়া ও কচুবাড়িয়া বেড়িবাঁধের প্রায় আড়াই কিলোমিটার ধসে যায়। এরপরে মেরামত না করায় বেড়ি বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ে। সিডরের জলোচ্ছ্বাসে খেতাছিড়ায় ৫৪ জন ও কচুবাড়িয়ায় ৬ জন মারা যায়। সম্প্রতি ওই বেড়িবাঁধের প্রায় ২ হাজার ৭০০ ফুট অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটি ভরাট ও ব্লক নির্মাণকাজ ২০১৬ সালে শুরু করে সম্পূর্ণ সমাপ্ত না করে মাঝপথে কাজ ফেলে ঠিকাদার চলে যায়। এ ছাড়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এক হাজার ফুট অংশে কোনো কাজ হয়নি। ফলে স্বাভাবিক জোয়ারে বাঁধ ধসে গ্রামে পানি ঢুকে পড়ছে।

বেড়িবাঁধ ধসের সত্যতা নিশ্চিত করে সাপলেজা ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজ মিয়া বলেন, বেড়িবাঁধটি নদীভাঙনকবলিত হওয়ায় কিছু অংশে ধস দেখা দিয়েছে। ওই অংশে জরুরি মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম ঢালী জানান, জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধের ধসের খবর পেয়েছি। বেড়িবাঁধটি নদীসংলগ্ন হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ। ওই স্থানে মাটি ভরাট ও ব্লক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে বাঁধসংলগ্ন জমির অধিগ্রহণ নিয়ে জমির জটিলতার কারণে বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সাময়িক সংস্কারের কোনো বরাদ্দ নেই।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter