কেরাম বোর্ড খেলা নিয়ে আ'লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ

  চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি ১৫ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

কেরাম বোর্ড খেলা নিয়ে আ'লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ

ভোলার চরফ্যাশনে কেরাম বোর্ড খেলা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৮ জন।

এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতরা স্থানীয় ও চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে উপজেলার শশীভূষণ বাজারের পাকা সেতুর গোড়ায় ছাত্রদলকর্মী মো হাসান ও শ্রমিকলীগ সদস্য মো. মাসুম কেরাম বোর্ড খেলছিল। ওই খেলা নিয়ে দু'জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

এক পর্যায়ে হাসানকে মাসুম ও তার ভাই মো. কবির বেধড়ক পেটায়। এ খবর পেয়ে হাসানের ভাই মো. হেলাল ও মো. রিপন এসে মাকসুদুর রহমান ও মো. মাসুমকে মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগ এক হয়ে শশীভুষণ বাজারে বিক্ষোভ করে।

এ সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের মালিকানাধীন ৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এ ঘটনা চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সংঘর্ষে বিএনপি পক্ষের মো. বেলাল কারিগর, মো. আক্তার হোসেন, হযরত আলী, মো রিপন, মো. হেলাল, মো. হাসান এবং শ্রমিক লীগের মাকসুদুর রহমান, মো. মাসুম ও মো. হেলালসহ ৮জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে শ্রমিকলীগের মাকসুদুর রহমান, মো. মাসুম ও মো. হেলাল চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।বিএনপির সমর্থকরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শশীভূষণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, তিনি ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য। মীমাংসাও করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাকে রাজনৈতিক খাতে নিয়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিকলীগ একত্র হয়ে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক দফা হামলা চালায়। তার সেনেটারি দোকানের প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর করেছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ ও শ্রমিকলীগ শুধু তার নয়, এ্যাওয়াজপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি হাবিবুর রহমানের বইয়ের দোকান, এ্যাওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. বেলাল কারিগরের বেলাল মেশিনারিজ, বিএনপির কর্মী আক্তার হোসেনের আক্তার কফি হাউজ ভাংচুর করেছে। তাদের বাজারে উঠতে দিচ্ছে না।

এদিকে আহত শ্রমিকলীগ নেতা মাকসুদুর রহমান বলেন, তিনি মীমাংসার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে হাসান-হেলাল তাকে ও তার ভাইকে পিটিয়ে জখম করে। তার বাবা মো. আ. আলী বাদী হয়ে ১৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলার এজাহার জমা দিয়েছেন। তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।

শশীভূষণ থানার ওসি কর্মকর্তা হানিফ শিকদার বলেন, ঘটনাটি আওয়ামী লীগ-বিএনপির ছিল না। কেরাম বোর্ড খেলা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে রাজনৈতিক খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে। কেউ মামলা করেনি। তবে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষের বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter