স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা হলো না প্রবাসী নাছিরের

  বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

দুর্ঘটনার পর সড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী

হবিগঞ্জে বাহুবলে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা হলো না প্রবাসী নাছির উদ্দিনের। প্রবাস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় তিনি নিহত হয়েছেন।

তাকে রিসিভ করতে যাওয়া সহোদরসহ দুর্ঘটনায় আরও ৫ জন গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে অপর এক যাত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বুধবার রাত ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহুবল সদরসংলগ্ন মোহনা কমিউনিটি সেন্টারসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার চন্দনিয়া গ্রামের নছর উদ্দিনের ছেলে প্রবাসী নাছির উদ্দিন (৪০) ও উপজেলার হরিতলা গ্রামের মুনছব উল্লার পুত্র আব্দুল্লাহ (৪০)। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার অপর এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিলীমা আক্তার (৭) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার চন্দনিয়া গ্রামের নছর উদ্দিনের ছেলে প্রবাসী নাছির উদ্দিন বিগত ১১-১২ বছর ধরে দুবাইয়ে কর্মরত আছেন। তিন সন্তানের জনক নাছির উদ্দিন প্রতি ২-৩ বছর পরপর ছুটিতে দেশে আসেন এবং স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটান। এবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তিনি দেশে স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

দুবাইয়ের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ছুটিও পান। দিনক্ষণ ঠিক হয় দেশে আসার। এ খবর তার পরিবারের পৌঁছালে তাদের ঈদের আনন্দে নতুনমাত্রা যোগ হয়। পরিবারিকভাবে কোরবানির গরু কেনার প্রস্তুতির পাশাপাশি স্বজনকে পাশে পেতে পরিবারের সদস্যদের দিন গণনা শুরু হয়।

বুধবার দুবাই থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। পরে সিলেট থেকে তারা যাত্রীবাহী বাসে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পথে রওনা হন। রাত পৌনে ১২টায় তারা বাহুবল উপজেলা সদরের মৌচাক পয়েন্টে নেমে একটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাড়ির পথে রওনা হন।

সিএনজি অটোরিকশাটি মোহনা কমিউনিটি সেন্টারের কাছে পৌঁছামাত্র পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ওই সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ও সিএনজি দুটোই পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে গেলে প্রবাসী নাছির উদ্দিন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ঘটনায় আহত হন নিহত নাছির উদ্দিনের সহোদর ইছার উদ্দিন (৩০), একই উপজেলার বালিচাপড়া গ্রামের আছদ উল্লাহর ছেলে নুরুল্লাহ (৪৬), হাবিজপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সেলিম মিয়া (৪০), হরিতলা গ্রামের মুনছব উল্লার ছেলে আবদুল্লাহ (৪০) ও একই গ্রামের এরাজত উল্লাহর ছেলে সিএনজিচালক শফিক মিয়া (৪০)।

আহতদের তাৎক্ষণিক বাহুবল ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল্লাহ মারা যান।

এদিকে প্রবাসী নাছিরের মৃত্যুর পরিবারটিতে নেমে আসে রাজ্যের শোক। রাতের নীরবতা ভেঙে শুরু হয় স্বজন হারানো আর্তনাদ। নিমিষেই ভারি হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস।

বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলী জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। চালক পালিয়ে গেলেও বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

অপর দিকে বৃহস্পতিবার মহাসড়কে দ্বিগাম্বর বাজারের অদূরে কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অপর এক সড়ক দুর্ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী নিলীমা আক্তার (৭) নিহত হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ২ ঘণ্টারও বেশি সময় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

নিহত নিলীমা আক্তার উপজেলার হাজীমাদাম গ্রামের খোয়াজ উল্লার কন্যা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় স্কুল ছুটির পর ছাত্রী নিলীমা আক্তার মহাসড়ক পারাপারের সময় সিলেটের দিক থেকে আসা লন্ডন এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু নিলীমার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখলে উভয় পার্শ্বে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে।

দুপুর ২টার পর বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী ও বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তোলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter