কুড়িগ্রামে গভীর রাতে কলেজছাত্রীর ঘরে পুলিশ, অতঃপর...

  রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

কুড়িগ্রাম ম্যাপ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গভীর রাতে কলেজছাত্রীর ঘরে ঢুকে পুলিশের এক এসআই। এ ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয়রা আলোচিত এসআই মিজানুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করে। এ ঘটনায় তাকে ৬ ঘন্টা আটকে রাখে গ্রামবাসী।

পরে রাজাহারহাট থানার আরেক এসআই উপস্থিত হয়ে দেড় লাখ টাকায় রফাদফা করে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুধখাওয়া মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজারহাট থানার এসআই মিজানুর রহমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুধখাওয়া মন্ডলপাড়া গ্রামের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রায়ই রাতে এসআই মিজানুর ওই বাড়িতে অবাধ যাতায়াত করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এস আই মিজানুর রহমান ওই কলেজছাত্রীর কক্ষে প্রবেশ করার পর তার সঙ্গে যাওয়া সোর্স (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাইরে থেকে ঘরের দরজা লাগিয়ে দেয়।

বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী ছুটে এসে ওই কক্ষ ঘিরে রাখে। পরে কয়েক'শ উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। এক পর্যায়ে জনতা এসআই মিজানুর রহমানকে গণধোলাই দেয়।

পরে গভীর রাতে খবর পেয়ে রাজারহাট থানার অপর এসআই নুর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি আপোস রফার প্রস্তাব দেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপ্লব আলী, আব্দুল কুদ্দুস, আতিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নগদ দেড় লাখ টাকা মেয়েটির হাতে দিয়ে বিষয়টি আপোস রফা করা হয়।

শুক্রবার ভোর ৫টায় এসআই মিজানুর রহমানকে ছাড়িয়ে নিয়ে থানা আসেন এস আই নুর আলম।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বিপ্লব আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এসআই নুর আলম আমাকে ওই বাড়িতে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দেড় লাখ টাকায় বিষয়টি রফা দফা করা হয়েছে।

এস আই মিজানুর রহমান জানান, মেয়েটি আমার ধর্ম বোন হওয়ায় মাঝে মধ্যে তার বাড়িতে যেতাম। বৃহস্পতিবার রাতে একটা কাজে ওই এলাকা দিয়ে আসার পথে ওই বাড়িতে প্রবেশের পর কিছু মানুষ ধাক্কা দিয়ে ওই ঘরের ভেতর ঠেলে দিয়ে আমাকে আটকে রাখে।

এস আই নুর আলম জানান, ওই ঘটনার আপোস মীমাংসা করতে গিয়ে রাতে ঘুমোতে পারিনি পরে কথা বলব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজারহাট থানার ওসি মোখলেসুর রহমান বলেন, আপনিও যা শুনেছেন, আমিও তা শুনেছি। বিষয়টি কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারকে অবগত করেছেন বলে জানিয়েছেন।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter