হবিগঞ্জের বিউটি হত্যা: বাবাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ১৯ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

হবিগঞ্জের বিউটি হত্যা: বাবাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত বিউটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দায়েরকৃত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বিউটির বাবা সায়েদ আলী ও প্রতিবেশী চাচা ময়না মিয়াসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি শাহ আলম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।

রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা।

এ সময় এসপি বলেন, বিউটি হত্যাকাণ্ড দেশে-বিদেশে একটি আলোচিত ঘটনা। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। যেহেতু ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, তাই এ মামলার তদন্তকাজ অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয় পুলিশকে। অনেক সতর্কতার সঙ্গে এটি তদন্ত করতে হয়েছে। কোনো ঘটনায় বাবা যদি হত্যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেক্ষেত্রে খুনি সাসপেক্ট করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।

একই সঙ্গে বিউটিকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবুল মিয়া ও সহযোগী হিসেবে তার মাকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে পৃথক চার্জশিট দেয়া হয়েছে।

যেহেতু বাবুল মিয়া তাকে ধরে নিয়ে ১৭ দিন আটক করে রেখে ধর্ষণ করেছে এবং বিউটির বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল তাই এ মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়। আর বিভিন্ন সময় বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবি সালিশে ছেলের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় তাকেও সহযোগী হিসেবে ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। এ ঘটনায় ২ মার্চ আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন তার বাবা সায়েদ আলী। এরপরই বিউটিকে তার নানার বাড়ি লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

১৬ মার্চ রাতে সেখান থেকে তাকে বাবা সায়েদ আলী নিয়ে এসে তুলে দেন ময়না মিয়ার হাতে। ময়না ও কামাল তাকে বাবার সামনেই হত্যা করে হাওরে লাশ ফেলে রাখে।

১৭ মার্চ বিউটি আক্তারের হাওরে পরে থাকা লাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি দেশে-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার করা হয় বাবুল মিয়া ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চান বিবিকে।

পরবর্তীতে বিউটির নানী ফাতেমা বেগম পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার মোটিভ ঘুরিয়ে দেন। তিনি জানান, বিউটির বাবাই খুনের অন্যতম হোতা। সায়েদ আলীই তাকে নানার বাড়ি থেকে বাবুলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার কথা বলে নিয়ে যান। তিনিই রাতে মেয়েকে তাদের হাতে তুলে দেন।

পরবর্তীতে বিউটির বাবা সায়েদ আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সব স্বীকার করে নেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে আটক করা হয় ময়না মিয়াকে। তিনিও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এরপর বিউটির বাবা সায়েদ আলীর দায়ের করা হত্যা মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়। আর শায়েস্তাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বিউটির বাবা সায়েদ আলী, ময়না মিয়াসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে ওই মামলায় রোববার আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। মামলায় ২১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter