শরীয়তপুরে বাস ভাড়া বৃদ্ধি, যাত্রীদের দুর্ভোগ

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

শরীয়তপুরে বাস ভাড়া বৃদ্ধি, যাত্রীদের দুর্ভোগ
ছবি- যুগান্তর

ঈদুল আজহা সামনে রেখে শরীয়তপুর জেলার সব রুটে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিটিং ও লোকাল বাসে ঢাকা-শরীয়তপুর-বেনাপোল-চট্টগ্রামসহ অন্যান্য রুটের বাসগুলোতে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিচ্ছে। আর এ অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে যাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হয় বলেও যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। যাত্রীরা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয় না।

অবশ্য চালক ও শ্রমিক নেতারা সত্যতা স্বীকার করে বলছেন, একমুখো যাত্রী থাকার কারণে কিছু অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে। প্রশাসন বলছে- এটি অন্যায়। তারা বিষয়টি দেখবেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, গত তিন দিন আগে থেকে ঢাকা-শরীয়তপুরগামী ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে সিটিং ও লোকাল বাসসহ ঢাকা-শরীয়তপুর বেনাপোল- চট্টগ্রাম রুটে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করছে। পাশাপাশি বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও গাদাগাদি করে পরিবহন করছে। কোনো নিয়মনীতি তারা মানছে না বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

শরীয়তপুর-ঢাকা গ্লোরী এক্সপ্রেসের ভাড়া ছিল ২২০ টাকা। অথচ ঈদের তিন দিন আগে থেকে ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। শরীয়তপুর-মঙ্গলমাঝিরঘাটের লোকাল বাসের ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা। তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা। সিটিং সার্ভিসের ভাড়া ছিল ৬৫ টাকা, তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা।

শরীয়তপুর থেকে কার্তিকপুর ভাড়া ছিল ৭০ টাকা, তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। শরীয়তপুর থেকে নাগেরপাড়ার ভাড়া ছিল ৪৫ টাকা। তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৭০ টাকা। শরীয়তপুর থেকে বেনাপোলের ভাড়া ছিল ৫০০ টাকা, তার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৮০০- ৯০০ টাকা। শরীয়তপুর থেকে চট্টগ্রাম, শরীয়তপুর-আলুরবাজার ও শরীয়তপুর-ডামুড্যা, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা রুটের বাস ভাড়ার অবস্থা একই।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে পরিবহনের কারণে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে এবং যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে যাত্রীদের লাঞ্ছিতও হতে হচ্ছে অহরহ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যাত্রীদের লাঞ্ছিত করার কথা অস্বীকার করে গাড়ির চালক ও শ্রমিকরা বলছেন, শরীয়তপুর থেকে মাঝিরঘাটে ঈদের আগে যাওয়ার পথে যাত্রী থাকে কম এবং ঈদের পর মঙ্গলমাঝিরঘাট থেকে শরীয়তপুর আসার যাত্রীও কম থাকে। এ কারণে ঈদের দুদিন আগে ও ঈদের পরে কিছু অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হয়।

প্রশাসনের লোকজন বলছেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন।

বাসযাত্রী রহিমা বেগম বলেন, মঙ্গলমাঝিরঘাট থেকে আমরা চারজন শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ডে নামছি। আমাদের থেকে ১২০ টাকা করে ভাড়া নিয়েছে। কম দিতে গেলে বাস থেকে নামিয়ে দেয়।

বাসযাত্রী বালুচরা গ্রামের খোকন বলেন, মাঝিরঘাট থেকে শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ড ৬৫ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা নিয়েছে। নিরুপায় হয়ে আসছি।

বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক হোসেন চৌকিদারকে ফোন দিলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

নাম না দেয়া শর্তে এক গাড়িচালক বলেন, আমরা চাকরি করি। মালিক সমিতি আমাদের যে নির্দেশ দেয়, সে অনুযায়ী আমরা ভাড়া নিয়ে থাকি। তবে ঈদ উপলক্ষে কিছু ভাড়া বেশি নিয়ে থাকি। তাও আসার পথে। যাওয়ার পথে তেমন যাত্রী থাকে না। এ কারণে ভাড়া বেশি নিয়ে থাকি।

বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সহসভাপতি আ. বারেক মিয়া বলেন, মাঝিরঘাট থেকে ৬৫ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা নিচ্ছি। তবে শরীয়তপুর থেকে ঘাটে আসার সময় কোনো যাত্রী থাকে না।

বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আনোয়ার হোসেন তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু বেপারিকে মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তারা রিসিভ করছেন না।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.