আমতলীতে বাস শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে দু’ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

  আমতলী প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০১৮, ২২:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

আমতলীতে বাস শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে দু’ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

বরগুনার আমতলীর রুদ্র-তুর্য্য পরিবহন বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের প্রতিবাদে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী চৌরাস্তা সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।

দু’ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের আমতলী পৌর শহরের বটতলা থেকে ছুরিকাটা পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পরে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার পর্যটক ও গন্তব্যগামী লোকজন।

জানা গেছে, সোমবার সকালে আমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে রুদ্র-তুর্য্য পরিবহন কুয়াকাটার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মহাসড়কের বান্দ্রা নামক স্থানে পৌঁছলে ইউনুস মিয়ার মাহেন্দ্র গাড়ির সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগে এমন দাবি মাহেন্দ্র শ্রমিকদের।

ওই দিন বিকালে রুদ্র-তুর্য্য পরিবহন কুয়াকাটা থেকে রবিশালের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে আমতলী চৌরাস্তা অতিক্রমের সময় ২০-২৫ জন মাহেন্দ্র শ্রমিক গাড়ি থামিয়ে চালক সাগর মিয়া ও সুপারভাইজার বেলায়েত হোসেনকে টেনেহেঁচড়ে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করে।

এ সময় তাদের রক্ষায় হেলপার জিয়া উদ্দিন ও রাজু মিয়া এগিয়ে আসলে তাদের মারধর করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

সংকটাবস্থায় সুপারভাইজার বেলায়েতকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বরগুনা জেলা বাস মালিক সমিতি ও পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির নেতাদের আহ্বানে বাস শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক মহাসড়কে বাস রেখে সড়ক অবরোধ করে।

বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা।

দু’ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পরে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার পর্যটক ও গন্তব্যগামী লোকজন।

খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও আমতলী থানা ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলনের সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মহাসড়ক অবরোধ স্থাগিত করে মালিক সমিতির লোকজন ও বাস শ্রমিকরা।

প্রত্যক্ষদর্শী রুদ্র-তুর্য্য গাড়ির কয়েকজন যাত্রী জানান, গাড়িটি আমতলী চৌরাস্তা অতিক্রম করার আগ মুহূর্তে ২০-২৫ জন লোক এসে গাড়ি থামিয়ে চালক ও সুপারভাইজারকে বেধড়ক মারধর করেছে।

রুদ্র-তুর্য্য পরিবহনের চালক সাগর মিয়া মাহেন্দ্র গাড়িতে ঘর্ষণ দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, মাহেন্দ্র শ্রমিকরা অহেতুক গাড়ি থামিয়ে টেনেহেঁচড়ে নামিয়ে আমাকে ও আমার গাড়ির সুপারভাইজার হেলপারসহ চারজনকে মারধর করেছে।

বরগুনার শ্রমিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহসভাপতি মো. হাসান মৃধা বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের সহযোগিতায় অবৈধভাবে মাহেন্দ্র গাড়ি মহাসড়কে চলাচল করছে।

তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান ও ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলনের সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মহাসড়ক অবরোধ স্থগিত করেছি। যদি তারা সুষ্ঠু সমাধান না দেন তাহলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডাকা হবে।

বরগুনা জেলা যান্ত্রিকযান থ্রিহুইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম খোকন মৃধা বলেন, সকাল ১১টার দিকে রুদ্র-তুর্য্য গাড়িটি ইউনুস মিয়ার মাহেন্দ্রটিকে পেছন দিক দিয়ে ধাক্কা দেয়। বিকালে আমতলী চৌরাস্তায় ওই গাড়িটি এলে মাহেন্দ্র শ্রমিক ইউনুস গাড়ির সুপারভাইজারকে সকালের ঘটনার কারণ জানতে চায়।

এ সময় সুপারভাইজার মাহেন্দ্রচালক ইউনুসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে মাহেন্দ্র শ্রমিকরা বাসের লোকজনকে মারধর করেছে।

আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ মৃধা ও বরগুনার বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সগির মিয়া সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেয়ায় বাস মালিক সমিতির লোকজন অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন মিলন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বাস শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter