‘আমরা পুলিশের লোক কীসের বিল দেব, ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দে’

  ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ২৮ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

‘আমরা পুলিশের লোক কীসের বিল দেব, ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দে’

‘আমরা পুলিশের লোক কীসের বিল দেব, ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দে’- ফাস্টফুড দোকানে খাওয়াদাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ৪ কর্মকর্তা এমন হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন দোকানটির মালিক জালাল উদ্দিন।

এছাড়া মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কের মালিক আব্দুস সাত্তারকে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ডিবির এএসআই আমিনুল (৪৮), বকুল (৫০), এসআই মিজান (৪৮) ও এসআই সায়েম (৪২)।

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

আদালত শুনানি শেষে একজন সহকারী পুলিশ সুপার দিয়ে তদন্ত করিয়ে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

জালাল উদ্দিনের আইনজীবী রফিক আহমেদ মামলার বরাত দিয়ে জানান, শহরের খানপুর বরফকল খেয়াঘাটসংলগ্ন চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কের সামনে মাইলাইফ ফেয়ার ফুড নামে একটি ফাস্টফুডের দোকানে জালাল উদ্দিন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

চৌরঙ্গী পার্কের মালিক আব্দুল সাত্তার ওই দোকানটি বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করছিলেন। ২৬ আগস্ট রোববার সন্ধ্যা ৭টায় সাত্তারের ইন্ধনে ডিবির এএসআই আমিনুল, এএসআই বকুল, এসআই মিজান, এসআই সায়েম দোকানে ফাস্টফুড খাওয়ার জন্য আসেন।

এ সময় তারা খাবারের অর্ডার দিলে জালালের ছেলে আল আমিন তাদের যথারীতি কুলকফি, লাচ্ছি, বার্গার, ফুচকা খেতে দেয়। খাওয়া শেষে জালালের ছেলে আলামিন খাবার বিলের টাকা চাওয়া মাত্র আব্দুল ছাত্তারের পূর্বপরিকল্পনা ও নির্দেশ মোতাবেক ডিবির লোকজন ধমক দেয়া জানান- ‘আমরা পুলিশের লোক কীসের বিল দেব’ এবং তারা ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এ সময় আল আমিন প্রতিবাদ করায় রাইফেল, পিস্তল ও শটগান দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত ও জখম করে। এবং ক্যাশ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়।

তিনি আরও জানান, এ খবর শুনে জালালের স্ত্রী রীনা ইসলাম (মর্জিনা) এলে তাকেও মারধর করে। একপর্যায়ে আমিনুলের হাতে থাকা পিস্তলের বাঁট দিয়ে জালাল উদ্দিনের মাথায় আঘাত করে এবং মুখে আঘাত করলে জালালের দাঁত ভেঙে যায়।

এ সময় মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে জানান জালাল উদ্দিনের আইনজীবী।

এর আগে সোমবার ভোরে এএসআই আমিনুল মূল ঘটনা আড়াল করে জালাল উদ্দিন তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আসামি করে সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় উল্লেখ করা হয়, রোববার রাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল দেয়ার সময়ে চৌরঙ্গী পার্কের সামনে দুই দল হকারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারি ঘটে। তখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেখানে গেলে ডিবির ওপর হামলা চালানো হয়।

অপরদিকে ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ সুপার ৮ জনকে ডিবি থেকে মাসদাইরে জেলা পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করেন।

৮ জন হলেন- ডিবির পরিদর্শক মাসুদুর রহমান, এসআই মিজানুর রহমান ও আবু সায়েম, এএসআই আজিজুর রহমান, দেওয়ান তৌফিক, বকুল মিয়া, আমিনুল হক ও কনস্টেবল লুৎফর রহমান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে খানপুর বরফকল খেয়াঘাটসংলগ্ন চৌরঙ্গী ফ্যান্টাসি পার্কের সামনে মাইলাইফ কেয়ার ফাস্টফুড নামে একটি দোকানে এক নারী নিয়ে খেতে যান ঢাকা ডিএসবির এসআই খায়রুল বাশার।

এ সময় মিল্কসেইক খাওয়ার পরে ওই মিল্কসেইকটি ভালো হয়নি দাবি করে বিল দিতে রাজি হননি তিনি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ঘটে। পরে সেখানে যান ডিবির এএসআই আমিনুল ও এএসআই বকুল। তখন তাদের সঙ্গে ফাস্টফুডটির মালিক জালালের ছেলে আলামিন ও রবিন বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

বাগ্বিতণ্ডার সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় জালাল ও তার স্ত্রী রিনা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে আসলে ডিবির দুই এসআই মিজান, সায়েম দুই এএসআইকে সঙ্গে নিয়ে জালাল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে মারধর করে রক্তাক্ত করেন। এতে আশপাশের লোকজন ফুঁসে উঠে ডিবির ৪ অফিসারকে বেধড়ক পিটুনি দেয়।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.