বরযাত্রীবাহী ট্রলারে বিদ্যুতায়িত হয়ে একজনের মৃত্যু, বরসহ আহত ৩০

  মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ২৮ আগস্ট ২০১৮, ২১:১০ | অনলাইন সংস্করণ

বরযাত্রীবাহী ট্রলারে বিদ্যুতায়িত হয়ে একজনের মৃত্যু, বরসহ আহত ৩০

বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনায় নেত্রকোনার বদনে এক তরুণকে অকালে প্রাণ দিতে হলো। তার নাম আল মামুন (২২)। মঙ্গলবার দুপুরে মদন উপজেলার মদন ইউনিয়নের কাইকুড়িয়া এলাকার তলার হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মামুন উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে।

তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের আব্দুর বারেকের ছেলে আশরাফুল বরযাত্রীসহ ট্রলারযোগে বিয়ের উদ্দেশে মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের সুরত আলীর বাড়ি যাত্রা করার সময় মামুন বিদ্যুৎপৃষ্টে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ সময় বর আশরাফুলসহ আরও ৩০ বরযাত্রী আহত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ৫০/৬০ জন বরযাত্রী নিয়ে তিয়শ্রী বাস্তা গ্রাম থেকে মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে কাইকুড়িয়া গ্রামের সামনে পৌঁছালে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে ট্রলারটি জড়িয়ে পড়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়।

এ সময় ট্রলারের ছাদের ওপরে থাকা লোকজন পানিতে পরে যান এবং ভেতরে থাকা লোকজনের আর্তচিৎকারে কাইকুড়িয়া গ্রামের লোকজন নৌকাযোগে এদেরকে উদ্ধার করে মদন হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত বর বাস্তা গ্রামের আশরাফসহ ওই গ্রামের বরযাত্রী লিপ্টন, হাবু, মহসিন, বাবুল, শাফায়েতুল, রাফি, সৌরভ, নৌকার সারেং রাজ্জাকের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপর আহত আরিফ, মইনুল, হাফিজ, ও ইজ্জত আলীকে মদন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাস্তা গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে আশরাফ মিয়ার সঙ্গে মোহনগঞ্জ উপজেলার বরান্তর গ্রামের ছোহরাব আলীর মেয়ে মিতা আক্তারের সঙ্গে বিয়ের দিন ঠিক ছিল।

কাইকুড়িয়া গ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী সুমন মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সামনের হাওরে বিদ্যুতের খুঁটিতে তার ছিঁড়ে ঝুলে থাকার বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসে জানালেও ব্যবস্থা না নেয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং আরও দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফখরুল হাসান চৌধুরী জানান, বরযাত্রীবাহী ট্রলারটি বিদ্যুতায়িত হয়ে একজন নিহত ও ২০ জনের মতো আহত হয়ে মদন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে নয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের মদন জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহবুব আলী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওই বিভাগের এজিএমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা- তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

মদন থানার ওসি মো. রমিজুল হক জানান, বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলে একজন বরযাত্রী নিহত এবং বহুলোক আহত হওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিবারের লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে নিহত মামুনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মদন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে রোগীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছি। এবং তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter