ঝিনাইদহে পুকুরে চাল: মামলায় একমাত্র আসামি চাল ক্রেতা

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ২০:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের পুকুর থেকে ভিজিএফের চাল উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় চাল ক্রেতা সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামের আজিজুল সাহাকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

বুধবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার দফতরের কার্যসহকারী মো. জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলটি দায়ের করেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ।

এর আগে মঙ্গলবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের একাধিক পুকুরে পাওয়া যায় ভিজিএফের জন্য বরাদ্দ করা চাল। পানিতে চাল পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে মর্মে খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মি ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন। এরপর মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন তিনি।

মঙ্গলবার হরিপুর গ্রামের চাল ব্যবসায়ী আজিজুল সাহা জানান,  মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের নিকটাত্মীয় বিষয়খালী গ্রামের সবুজের কাছ থেকে ভিজিএফের ৫২ বস্তা (২৬ কুইন্টাল) চাল ২৬ টাকা ৫০ পয়সা কেজিদরে কিনেছেন।

তবে অজ্ঞাত কারণে সবুজকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল কালোবাজারে বিক্রির অপর ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলায় সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামের অমূল্য বিশ্বাসের ছেলে বিপুল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ মামলার অপর দুই আসামি উপজেলার মধুনাথপুর গ্রামের মৃত রওশন জোয়ারদারের ছেলে মো. মিঠু জোয়ারদার ও একই উপজেলার কলমনখালী গ্রামের মৃত বাবর আলীর ছেলে  মো. শরিফুল মোল্লাকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ।

গত ২৭ আগস্ট বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেন সদর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার দফতরের কার্যসহকারী মো. জাহিদ হোসেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইসহাক আলী জোয়ারদার বিতরণের আগেই ১০৪ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। সেই চাল ঈদের দুই দিন আগে জব্দ করে পুলিশ।

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়ররা ভিজিএফ কর্মসূচির অধীন নিজ নিজ এলাকার হতদরিদ্রদের নাম-ঠিকানা ও ভোটার নম্বরসহ তালিকা জমা দিয়েছেন। অভিযোগ করা হয়েছে সেই তালিকার বাইরে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণকালে চেয়ারম্যান মেম্বাররা ও এলাকার প্রভাবশালীরা পছন্দের লোকজনের হাতে কার্ড তুলে দেয়ার সুযোগ কাজে লগিয়েছেন। পদ্ধতিগত দুর্নীতি করার সুযোগ থাকায় কালোবাজারে চাল বিক্রি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

বুধবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মি ইসলাম নতুন করে যুগান্তরকে বলেন ভিজিএফের বরাদ্দ করা চাল কালোবাজারে বিক্রিসহ পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় জড়িতদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

চাল ব্যবসায়ী আজিজুলকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে গ্রেফতার করার পরে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে অন্য জড়িতদের নাম জানা সম্ভব হবে।

নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, ইতিমধ্যে দোগাছী ইউনিয়নের ঘটনায় গ্রেফতার করা বিপুল বিশ্বাসকে রিমান্ড নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কারো নাম বেরিয়ে এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত ভিজিএফ কর্মসূচির অধীন জেলার বিভিন্ন খাদ্যগুদাম থেকে দুই হাজার ৩৯ দশমিক ৪৬০ টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এ চাল জেলার ৬৭টি ইউনিয়ন এবং ৬টি পৌরসভার এক লাখ এক হাজার ৯৭৩ জন তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করার কথা।

সূত্রমতে, বরাদ্দ করা প্রতিটন চালের সরকারি অর্থনৈতিক মূল্য ৪২ হাজার ১৫২ টাকা। সেই হিসেবে এ জেলার জন্য সরকার প্রায় আট কোটি ৫৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছেন।

অন্যদিকে কালীগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা এক হাজার ৪৪৪ কেজি ভিজিএফের চাল উদ্ধারের ঘটনায় থানায় কেউ মামলা করেনি।

সংশ্লিষ্ট থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন উদ্ধার করা চাল সরকারি খাদ্যগুদামের কিনা তা পরীক্ষা করবেন খাদ্য বিভাগ। সরকারি চালের প্রমাণ পাওয়ার পর আদালতের অনুমতি নিয়ে থানায় মামলা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।