অসহায় এক পরিবারের সঙ্গে অভিনব প্রতারণা

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ৩০ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

অসহায় এক পরিবারের সঙ্গে অভিনব প্রতারণা
নিখোঁজ কুষ্টিয়ার কৃষক লালটুসা। ছবি: সংগৃহীত

থানার পরিদর্শকের দেয়া মোবাইল ফোন নম্বরে টাকা পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ঢাকার গাবতলী হাটে গরু বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ কুষ্টিয়ার কৃষক লালটুসার পরিবার।

লালটুসার সন্ধান মিলেছে এবং তার অবস্থা খুব খারাপ, ওষুধ কিনতে জরুরি টাকার প্রয়োজন- এমন কথা বলে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার ইবি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহরুল আলমের দেয়া মোবাইল ফোন নম্বরে টাকা পাঠিয়ে এমন প্রতারণা শিকার হয়েছে পরিবারটি। টাকা পাঠানোর কয়েক মিনিট পর মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে ওই নম্বরে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবারটি।

তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, আমি নিষেধ করার পরও তারা গোপনে ওই নম্বরে টাকা পাঠিয়েছে।

জানা যায়, ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার রাতে ঢাকার গাবতলী হাটে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন কুষ্টিয়ার মনোহারদিয়া ইউনিয়নের কন্দর্পদিয়া গ্রামের দুই কৃষক আজিজুল মণ্ডল ও লালটুসা।

এদের মধ্যে আজিজুর মণ্ডলের লাশ ঈদের দিন বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার ঢাকা-ঈশ্বরদী রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না মেলায় বৃহস্পতিবার তার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে সিরাজগঞ্জ জিআরপি থানা পুলিশ। অপরজন লালটুসা ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ লালটুসার ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম মালিথা বলেন, বুধবার সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বৈঠক করছিলাম। এমন সময় ইবি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহরুল আলম আমাকে ফোন করে বলেন আপনার লোকের সন্ধান মিলেছে। সে বর্তমানে টাঙ্গাইল হাসপাতালে ভর্তি আছে। এসআই মিজান ওখানে আছেন। পরিদর্শক সাহেব আমাকে বলেন আপনারা তাড়াতাড়ি একটি গাড়ি ঠিক করে ওখানে লোকজন পাঠান। পুলিশ পরিদর্শকের কাছ থেকে এসআই মিজানের মোবাইল নম্বর নিয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই নম্বরে যোগাযোগ শুরু করি। পুলিশ পরিদর্শকের দেয়া মোবাইল নম্বর থেকে আমাকে জানায় আপনার রোগী ৬-৭ দিন হাসপাতালে পড়ে আছে। আপনারা তাড়াতাড়ি গাড়ি নিয়ে চলে আসেন। আমি তাৎক্ষণিক মাইক্রো ভাড়া করে লোকজন পাঠিয়ে দেই। গাড়ি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর ওই নম্বর থেকে আমাকে ফোন করে জানায় আপনার রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। তাকে বাঁচাতে হলে এক্ষুনি ১৩ হাজার ৩০০ টাকা বিকাশে পাঠান। ওষুধ কিনতে হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেই।

নিখোঁজ লালটুসার ভাই আরও বলেন, থানার পরিদর্শক এবং ক্যাম্পের ইনচার্জ যেখানে মোবাইল নম্বর দিয়েছেন, সেই নম্বর কীভাবে আমি অবিশ্বাস করব। টাকা পাঠানোর কয়েক মিনিট পর ওসি সাহেব ফোন করে বলেন ওই নম্বরে যোগাযোগ করার দরকার নেই। ওটা কোনো প্রতারকচক্রের নম্বর।

ইবি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহরুল আলম বলেন, বুধবার সকালে একটি নম্বর থেকে আমার কাছে ফোন আসে। সে টাঙ্গাইল থানার এসআই মিজার পরিচয় দিয়ে বলে, স্যার আপনার এলাকার কর্ন্দরপদিয়ায় বাড়ি লালটুসাকে এখানে রেললাইনের পাশে পাওয়া গেছে। সে খুব আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছে। ওর বাড়িতে খবর দিয়ে দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমি সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল ফোন দিয়ে খবর নিয়ে জানতে পারি টাঙ্গাইল থানায় মিজান নামে কোনো এসআই নেই। আমি তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নিখোঁজ লালটুসার ভাই এস এম মালিথাকে ফোন করে ওই নম্বরে কোনো যোগাযোগ করতে নিষেধ করি। আমাকে গোপন করে তারা ওই নম্বরে টাকা পাঠিয়েছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter