উলিপুরে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে টি বাঁধ

  উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

উলিপুরে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে টি বাঁধ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের সবচেয়ে বড় টি-বাঁধটি (টি হেড গ্রোয়েন)। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এক বছর আগে নির্মিত টি-বাঁধটি যে কোনো মূহুর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে তিস্তার কড়াল গ্রাসে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, টি বাঁধের পশ্চিম তীরে নদী বেঁধে বৃহৎ সোলার প্যানেল প্রকল্প গ্রহণের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ পানির চাপ বৃদ্ধি ও শুকনো মৌসুমে একটি চক্র ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে টি-বাঁধটি । জানা গেছে, উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নে তিস্তার বাম তীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সবচেয়ে বড় টি বাঁধটি নির্মাণ করা হয়।

২০১৭ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের ভ্রমণ পিপাসু মানুষের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয় বাঁধটি। এ অবস্থায় প্রতিদিন টি-বাঁধটিকে ঘিরে শতশত বিনোদনপ্রেমি বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ভীড় জমাতে থাকেন।

বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে এ অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের স্থানটি হারিয়ে যাবে সেই সঙ্গে এলাকাটি পড়বে নদী ভাঙ্গনের মুখে।

সরেজমিন শনিবার (০১ সেপ্টেম্বর) টি বাঁধ এলাকায় গেলে স্থানীয় আব্দুল মজিদ (৬০), নুরু মিয়া (৬৫) ও দুলু মিয়া (৪২) অভিযোগ করে বলেন, তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত টি বাঁধের পশ্চিম তীরে উজানে ৩টি চ্যানেল ও অনেকগুলো ছোট ছোট শাখামুখ বন্ধ করে দিয়ে বৃহৎ সোলার প্যানেল প্রকল্পের জন্য মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করায় পানির গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়া ও শুকনো মৌসুমে একটি প্রভাবশালী মহল ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে টি-বাঁধটি।

এদিকে বাঁধটির সৌন্দর্য্য বর্ধন ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করতে কুড়িগ্রাম পাউবো কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটির উপরিভাগ পাঁকা করণের কাজ শুরু করেছেন।

বাঁধটি যেখানে ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে সেখানে এ মহুর্তে পাঁকাকরণের অর্থ পানিতে যাবে বলে তাদের অভিযোগ।

কুড়িগ্রাম পাউবো’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, পানির উল্টোপাক (ঘুর্ণায়ন) এর কারণে নীচের ডাম্পিং জোনের বালু সরে যাচ্ছে ফলে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা গ্রোয়েনটি রক্ষা করে আগামী শুস্ক মৌসুমে সংস্কার কাজ করব। তিস্তা ব্রীজের কাছ থেকে চিলমারী উপজেলা পর্যন্ত বাম তীর রক্ষায় আমরা আরও কিছু গ্রোয়েন নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.