শরীয়তপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুবলীগের হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

শরীয়তপুর ম্যাপ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যুবলীগের হামলায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৩ শতাধিক নেতাকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় তারা নিরাপদে যায়।

এদিকে যুবলীগ বলছে, তাদের মিছিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। এ ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আহতরা হলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু, পৌর বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকার, জেলা জাসাসের সহসভাপতি নিপা আকতার জেলা, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম খায়ের, জেলা যুবলীগের সহদফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবর, যুবলীগ নেতা প্রকাশ বন্দুকচি, রিয়াদ মাল, জয়

মোল্যা, সবুজ মাদবর। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার নাসির উদ্দিন কালুর ধানুকা বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাসভবনের সামনে শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল করে তাদের দলীয় স্লোগান দিতে দিতে বিএনপির অনুষ্ঠানস্থলে হামলা করে। এ সময় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহম্মেদ অসলামসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ৩ শতাধিক নেতাকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এদিকে দুপুর ২টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফিকুর রহমান কিরন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহম্মেদ অসলামসহ নেতাকর্মী পুলিশের সহায়তায় তাদের গন্তব্যে যেতে চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুনরায় হামলা করে।

পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নাসির উদ্দিন কালুর বাসায় আশ্রয় নেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পরপর কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বেলা ৩টায় জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহম্মেদ আসলামসহ নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় বের হয়ে নিরাপদে চলে যায়। এ ঘটনায় শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জেলা যুবলীগের সহদফতর সম্পাদক আহত জাহাঙ্গীর মাদবর বলেন, আমরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিছিল করে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিএনপির নেতা টিপু মাদবরের নেতৃত্বে কতিপয় নেতাকর্মী যুবলীগের মিছিলে হামলা করে এতে কমপক্ষে ৫-৬ জন আহত হয়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টেপু বলেন, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান চলাকালে বেলা সাড়ে ১২টায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মীরা

লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের অনুষ্ঠানে হামলা করে। এ সময় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ ঘটনায় বিএনপির ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে।

জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমাদের পূর্বনির্ধারিত ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে কমপক্ষে ২৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। আমি পুলিশের সহায়তায় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিরাপদে চলে যাই।

পালং মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে কিছুসংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী হামলা করে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে ৫-৭ জন আহত হয়। জেলা বিএনপির সভাপতিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের নিরাপদে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter