সাংবাদিক সুবর্ণা নদী হত্যা: রিমান্ড শেষে আবুল হোসেনকে আদালতে সোপর্দ

  পাবনা প্রতিনিধি ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

সাংবাদিক সুবর্ণা নদী

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি এবং অনলাইন পোর্টাল জাগ্রত বাংলার সম্পাদক প্রকাশক সুবর্ণা নদী হত্যার রহস্য নিয়ে পুলিশ এখনো গোলক ধাঁধায়।

নদীর মায়ের দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে পুলিশ নদীর সাবেক শ্বশুর বিশিষ্ট শিল্পপতি আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়। কিন্ত ওই ৩ দিনের রিমান্ডে আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত ইতিবাচক কোনো তথ্য পায়নি বলে জানা গেছে।

রোববার বিকালে আবুল হোসেনকে আদালতে ফের হাজির করা হয়। তবে তার পুনরায় রিমান্ড চাওয়া হয়নি।

এদিকে নদীর সাবেক স্বামী রাজিবের সন্ধান দিতে তার মা এবং বোনকে শনিবার রাতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়।

সাংবাদিক নদীর প্রথম স্বামী জীবনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর মেয়ে জান্নাতকে (৭) নিয়ে মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। এরই মধ্যে ২০১৬ সালের ৬ জুন তারিখে ইড্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস এবং শিমলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আবুল হোসেনের ছেলে রাজিবুল ইসলাম রাজিবকে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেন।

গত বছরের ৩১ মে ৫ লাখ টাকা যৌতুক না দেয়ায় স্বামী রাজিব বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে নদী অভিযোগ করেন। এরপর গত বছরের ৪ জুন সে পাবনার শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আদালতে স্বামী, শ্বশুর এবং শাশুড়িকে আসামি করে মামলা করেন।

এই মামলা চলাকালীন গত বছরের ২২ জুলাই নদী এক সংবাদ সম্মেলনে তার জীবননাশ হতে পারে বলে সাংবাদিকদের কাছে তার উদ্বেগের কথা জানান।

নদীর বড় বোন চাম্পা খাতুন বলেন, গত ২৮ আগস্ট ছিল ওই মামলার সাক্ষীদের বক্তব্য শোনার দিন। এদিন নদীর পক্ষে ভালোভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ওই দিনই রাতে নদী মুখ বাঁধা কয়েকজন দুর্বৃত্তের এলাপাতাড়ি চাপাতির আঘাতে নির্মমভাবে খুন হন।

রাজিবের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে পাবনা শহরের রাধানগরের ভাড়া বাসায় তার ৭ বছরের একমাত্র মেয়ে জান্নাত, বড় বোনের ছেলে আলিফ হোসেন (৭) এবং মা মর্জিনা বেগমকে নিয়ে বাস করতেন সুবর্ণা নদী। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সামান্য জমি বিক্রি করে পাবনা প্রেসক্লাব গলিতে নতুন অফিস নেন এবং কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র কেনেন।

সুবর্ণা নদী কাজ করতেন আনন্দ টিভিতে এবং নিজে জাগ্রত বাংলা নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালাতেন। মঙ্গলবার এই অফিস থেকেই আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় ফেরার পথে বাসার গেটের সামনে পৌঁছলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৪-৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত নদীর পর হামলা চালায়।

তারা চাপাতি দিয়ে নদীর ঘাড়ে পিঠে এবং গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলাপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যার পরদিন নদীর মা মর্জিনা বেগম ইড্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস ও শিমলা ডায়াগনস্টিকের মালিক এবং নদীর সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেন (৬০), তার ছেলে নদীর সাবেক স্বামী রাজিব (৩৫), রাজিবের সহকারী মিলনসহ (৩৪) অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে পাবনা থানায় মামলা করেন। এই মামলার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখায়।

এর আগে হত্যার রাতেই আবুল হোসেনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। আবুল হোসেন এ সময় তার অফিসে ছিলেন বলে পুলিশ সাংবাদিকদের জানান।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রেফতার আবুল হোসেনকে পাবনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক অরবিন্দ সরকার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ হোসাইন শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

কিন্ত আবুল হোসেনের কাছ থেকে কোনো তথ্য না পাওয়ায় গোলক ধাঁধায় পড়ে পুলিশ। এতে করে হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও নদী হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়নি।

সাংবাদিক নদী হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক অরবিন্দ সরকার জানান, আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে এই মামলার অন্য আসামি নদীর সাবেক স্বামী রাজিব এবং তার সহকারী মিলনকে গ্রেফতার করা তাদের জন্য খুবই জরুরি। এ জন্য রাজিবের মা এবং বোন শাপলাকে (২৫) জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলেও তারা হাল ছাড়ছেন না। পুলিশ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে মাঠে কাজ করছে এবং ভালো কিছু সংবাদ অচিরেই পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

এদিকে নিহত নদীর বড় বোন জানান, মৃত্যুর আগে নদী তার মায়ের কাছে হত্যাকারীদের নাম বলে গেছেন। নদীর মাও বলেন একই কথা এবং সে অনুযায়ী নদীর মা মর্জিনা বেগম মামলা করেন।

কিন্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং মামলাসহ আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে আবুল ও তার ছেলে রাজিবের সঙ্গে নদী ও তার পরিবারের চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। রাজিব তার বাবাকে অন্ধকারে রেখে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কী না বা এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো পক্ষ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না- এসব বিষয় মাথায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। এ জন্য রাজিব ও মিলনকে গ্রেফতার করা অত্যন্ত জরুরি।

ঘটনাপ্রবাহ : সাংবাদিক সুবর্ণা নদী খুন

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter