ফতুল্লায় এজিবির সাবেক কর্মকর্তাকে হত্যা, স্ত্রী-ছেলে গ্রেফতার

  ফতুল্লা প্রতিনিধি ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সঞ্চিত টাকার জন্য এজিবির সাবেক কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নিহতের স্ত্রী বিলকিস বেগম ও তাদের একমাত্র ছেলে বিল্লাল হোসেন শাকিবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে পরিবারের ৩ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর আসামি নিহতের বড় মেয়ে শামীমা আক্তার নিপা পলাতক রয়েছে।

নিহত শাহাদাৎ হোসেন মুন্সিগঞ্জ সদরের আশুরান গ্রামের মৃত সামসুল হক মোল্লার ছেলে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের জানান, মামলার বাদী নিহতের ছোট ভাই বন্দরের কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। এ মামলায় মা ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

মামলার বরাত দিয়ে ওসি বলেন, শাহাদাৎ হোসেন এজিবির সিনিয়র অডিট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৫ বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নেন। চাকরিজীবনে এককালীন বেশকিছু টাকা তিনি পেয়েছিলেন। সে টাকায় মাসদাইর এলাকায় একটি বাড়িও করেন। তবে সে বাড়িটি পরে আবার বিক্রিও করে দেন।

তিনি বলেন, বাড়ি বিক্রির পর জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার সোহাগ মিয়ার ৫তলা ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। এখানে তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন। তবে প্রায় সময় শাহাদাৎ হোসেনকে মারধর করতেন তার স্ত্রী বিলকিস বেগম। তার সঙ্গে ছেলে মেয়েও যোগ দিতেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকবার বিচার সালিশও হয়। এমনকি অত্যাচারের শিকার শাহাদাৎ হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় জিডিও করেছিলেন।

আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, ভাইয়ের সঞ্চিত টাকার জন্যই ভাবি এবং ভাতিজা-ভাতিজিরা অত্যাচার, মারধর করতেন। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার ভাইকে মারধর করে হত্যা করা হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জামতলার ধোপাপট্টি এলাকার সোহাগ মিয়ার ৫তলা ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে এজিবির সাবেক সিনিয়র অডিট অফিসার শাহাদাৎ হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ডান চোখের ওপরের অংশে একটি এবং ডান বুকে ৪টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আবেদ।

লাশ উদ্ধারের পর নিহতের বড় মেয়ে শামীমা আক্তার নীপার স্বামী ট্রাস্ট ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। শ্বশুরের টাকার জন্য প্রায় সময় তার শাশুড়ি, শ্যালক ও স্ত্রী মারধর করতেন। একবার তার সামনেও মারধর করেছিলেন।

নিহতের ভাগিনা জাহাঙ্গীর হোসেনও দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, প্রায়সময় মামি বিলকিস বেগম, মামাতো ভাই বিল্লাল ও বোন নিপা মামাকে মারধর করতেন। এর মধ্যে একবার মারধর করে মামার কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন তারা।

গ্রেফতারকৃত বিলকিস বেগমের দাবি, আমাদের সংসারে ২ মেয়ে এক ছেলে রয়েছে। ২৯ আগস্ট বিকেলে শাহাদাতকে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে শরিরের আঘাতসহ মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসি। শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ তিনি মারা যান।

তিনি বলেন, আমি ও আমার ছেলে মেয়ে এ হত্যায় জড়িত না। শাহাদাৎ আয় উপার্জনের টাকা পয়সা কোনো সময় আমাদের দিত না এবং কোথায় রাখত তা-ও কখনো বলেনি। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ ছিল। কিন্তু আমরা তাকে হত্যা করিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×