গড়াই নদীর তীর ও শেখ রাসেল সেতুর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

গড়াই নদীর তীর ও শেখ রাসেল সেতুর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন
ছবি: যুগান্তর

গড়াই নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে নদীর ওপর নির্মিত কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতুর সংরক্ষণ বাঁধ এবং হরিপুর অংশে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে শুরু হয়েছে ভাঙন। নির্মাণের এক বছরের মধ্যে সংরক্ষণ বাঁধ ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতু।

শনিবার সন্ধ্যায় সৃষ্ট ভাঙনে রোববার সকাল পর্যন্ত সেতুর হরিপুর অংশের পশ্চিম পাশে প্রায় ১০০ মিটার নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙে শেখ রাসেল সেতুর প্রটেকশন বাঁধে ঢুকে পড়ে। এতে এক রাতেই সেতুর সংরক্ষণ রাধের প্রায় ৩০ মিটার নদীতে তলিয়ে যায়।

এদিকে ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে একে অন্যের ওপর দোষারোপ শুরু করেছে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বলছেন, সেতুটি ঝুঁকিতে পড়লেও আমাদের আর কিছু করার নেই। নদীভাঙনের বিষয়টি এখন দেখার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ব্রিজের প্রটেকটিভ এরিয়ায় ভাঙন হলে সেটা দেখবেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। শুধু সেতুর সংরক্ষণ বাঁধ নয়, ভাঙন দেখা দিয়ে গড়াই নদীর সংরক্ষণ বাঁধেও।

নদীর হরিপুর অংশে সংরক্ষণ বাঁধ ভেঙে কয়েক কিলোমিটার বালুর চর বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে থেকেই নদীর এই স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার কর্মকর্তাদের অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এলাকাবাসীর।

কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে গড়াই নদীর ওপর নির্মিত কুষ্টিয়া-হরিপুর শেখ রাসেল সেতুর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ৫ কোটি টাকায় সেতুর দুই পাড়ে সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার গ্রুপ। এর মধ্যে কুষ্টিয়া অংশে ১৯০ মিটার এবং হরিপুর অংশে ২৫০ মিটার সংরক্ষণ বাধ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শেষ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ বলছেন, এখন নদীভাঙনের মুখে সেতুটি ঝুঁকিতে পড়লেও আমাদের আর কিছু করার নেই। কারণ সেতুর নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের বিষয়টি এখন দেখার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান জানান, ব্রিজের প্রটেকটিভ এরিয়ায় ভাঙন হলে সেটা দেখবেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। তবে প্রটেকটিভ এরিয়ার বাইরে হলে সেটা আমরা দেখব।

এদিকে গড়াই নদী খননের মাটি ও বালু সংরক্ষণে নদীর দুই তীরে ফ্লো-ডিভাইডার ও গাইড বাঁধ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গড়াইয়ের হরিপুর অংশে খনন করে উত্তোলিত বালুর চরে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

রোববার সকালে গড়াইয়ের হরিপুর অংশে দেখা গেছে কয়েক কিলোমিটার বালুর চর ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

সূত্রে জানা যায়, গড়াইয়ের হরিপুর অংশে নদীর তীর সংরক্ষণে ২০১৪ সালে চার গ্রুপে টেন্ডার আহ্বান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ৮৪৫ মিটার বাঁধ নির্মাণে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। দরপত্রের চার গ্রুপের কার্যাদেশেই কত মিটার কাজ করতে হবে, কত টাকা ব্যয়, কি কি দিয়ে এবং কিভাবে নদীর তীর সংরক্ষণ করতে হবে, তার সবকিছুই স্পষ্টভাবে লেখা ছিল। এর মধ্যে হরিপুর অংশে ৪৪০ মিটার বাঁধ নির্মাণে ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৬ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়। কয়েক দিনে নদীর ওই অংশেই প্রায় ৩০০ মিটার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

টেন্ডারের ওই কার্যাদেশে কোনো শর্তই পূরণ না করে সে সময় নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে ওই সময় মোটা অঙ্কের টাকা হরিলুট করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই খননের উত্তোলিত বালু ফের নদীতেই চলে যাচ্ছে।

গড়াই ড্রেজিংয়ে খনন করে উত্তোলিত বালু অরক্ষিতভাবে নদীর মধ্যেই সংরক্ষণ করায় নদীর মধ্যে প্রায় ৮ ফুট উঁচু বালু চরের সৃষ্টি হয়েছে। ২৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও নদীর মধ্যে ৮ ফুট উঁচু বালুর চর সংরক্ষণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এমনকি হরিপুর অংশে আলাদাভাবে নদীর তীর সংরক্ষণে ১২ কোটি টাকার টেন্ডার হলেও কোনো কাজ হয়নি। যার ফলে গড়াইয়ের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই চরে প্রতিবছরই ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter