শিশুমৃত্যুর ঘটনায় শেবাচিম হাসপাতালের ১৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

  বরিশাল ব্যুরো

শিশু ইসরাত-ছবি: যুগান্তর

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইসরাত (৩) নামের এক কন্যাশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অপচিকিৎসা ও কর্তব্য অবহেলার অভিযোগ এনে ১৩ জনের বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

সোমবার বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ওই শিশুটির বাবা উজিরপুর উপজেলার পূর্ব ধামুরা এলাকার বাসিন্দা আল আমিন জমাদার। 

মামলাটি বিচারক মারুফ আহম্মেদ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। 

এ মামলায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. অসীম কুমার সাহাসহ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, শিশু বিভাগের ডায়েরিয়া ইউনিট ২ এ ওই সময়ে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক, শিশু বিভাগের ডায়েরিয়া ইউনিটের সেবিকা সিপু, শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের ইউনিট ৩-এর রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রার। এছাড়া আরও ৬ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে বিবাদী উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে। 

এজাহার সূত্রে জানা গেছে,  ২৩ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ করে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুকন্যা ইসরাত। এ সময় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে শিশু বিভাগের ডায়েরিয়া ইউনিট ২ এ প্রেরণ করে। 

ওই ইউনিটে দায়িত্বরত অজ্ঞাতনামা ইন্টার্ন চিকিৎসক বাদী আল আমিন জমাদারকে স্লিপ লিখে দেয় স্যালাইন ও ওষুধ আনার জন্য। কিন্তু ওই স্লিপ ৫নং আসামি সেবিকা সিপু বাদীর কাছ থেকে নিয়ে যায় এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকের দেয়া ওষুধ বাদ দিয়ে নতুন ওষুধ লেখাসংবলিত অপর একটি স্লিপ দিয়ে সেগুলো আনতে বলে। 

৫নং আসামি সেবিকা সিপুর দেয়া ওষুধ শিশু ইসরাতের শরীরে প্রয়োগ করা হলে শিশু ইসরাত জ্ঞান হারায়। পরে ইসরাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ডায়েরিয়া ইউনিট ৩ এ প্রেরণ করা হয়। 

ওই ইউনিটের চিকিৎসক রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়া সত্ত্বেও কোনো চিকিৎসা প্রদান করেননি। আসামিদের ভুল চিকিৎসা ও কর্তব্য অবহেলার কারণে শিশু ইসরাতের ২৫ আগস্ট রাত ২টা ২০ এর সময় মৃত্যু হয়। 

এ সময় বাদী আল আমিন জমাদার ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণ জানতে চাইলে আসামিরা বাদীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মৃত কন্যাশিশুসহ তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে। 

এরপর সোমবার এই অভিযোগগুলো এনে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন আল আমিন জমাদার।