বগুড়ায় কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাতকারী সেই অভি রিমান্ডে

  বগুড়া ব্যুরো ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাতকারী অভি রিমান্ডে

বগুড়ায় কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে ছুরিকাঘাত মামলার আসামি শহর যুবলীগ সভাপতির ছেলে কাওসার অভি (২২) এখন পুলিশ হেফাজতে। মা নাসরিন আলম রোববার রাতে তাকে সদর থানা পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শেখ ফরিদ হোসেন তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন।

পরিদর্শক শেখ ফরিদ হোসেন ও অন্যরা জানান, তাদের ব্যাপক তৎপরতার মুখে অভিভাবকরা কাওসার অভিকে থানায় সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেন। বগুড়া শহর যুবলীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম জয়ের স্ত্রী নাসরিন আলম রোববার রাতে সদর থানায় এসে তার ছেলে কাওসার অভিকে সোপর্দ করেন। সোমবার বিকালে অভিকে সদর কোর্টে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে সন্ধ্যায় বিচারক তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, বগুড়া শহরতলির পালশা বিদ্যুৎনগর এলাকার জাহিদুর রহমানের মেয়ে বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে পড়ে। লেখাপড়ার পাশাপাশি শহরের বাদুড়তলায় রূপছাড়া বিউটি পার্লারে বিউটিশিয়ানের কাজ শেখে। বাড়ি থেকে কলেজ ও পার্লারে যাতায়াতের পথে অভি তাকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিত। এতে সাড়া না দেয়ায় কলেজছাত্রীর ওপর অভি ক্ষিপ্ত হয়।

গত ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে অভি ও তার তিন সঙ্গী বাদুড়তলায় ওই বিউটি পার্লারে যায়। সেখান থেকে ছাত্রীকে তুলে কাটনারপাড়ার একটি বাড়িতে নেয়া হয়। আবারও প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রীকে মারধর করার পর উরু ও হাতে ছুরিকাঘাত করে। এরপর হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নামাজগড় এলাকার ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অভির মা ও অন্যরা হাসপাতালে গিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব দিলে ভয়ে অভিভাবকরা ৩১ আগস্ট ছাড়পত্র ছাড়াই মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর বিকালে ছাত্রীর বাবা জাহিদুর রহমান সদর থানায় অভি ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি হলে পুলিশ অভিকে গ্রেফতার তৎপর হয়। বাধ্য হয়ে রোববার রাতে মা নাসরিন আলম তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

অপরদিকে আসামির পরিবার সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিকসহ সবদিকে প্রভাবশালী হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে ছাত্রীর পরিবার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter