শরীয়তপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

‘জান যে নিয়েছে, সেটা তো সে আর ফেরত দিতে পারবে না’

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি

ছবি- যুগান্তর

‘আমার স্বামীর (সুমন) জান যে নিয়েছে, সেটা তো আর সে ফেরত দিতে পারবে না। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করছি- সুমনের ময়নাতদন্ত যেন না করা হয়। হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

মঙ্গলবার সকালে শরীয়তপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সুমন পাহাড়ের (২৩) স্ত্রী বৃষ্টি এ কথা বলেন। নিহত সুমন পাহাড় শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বালুচড়া গ্রামের মৃত এসকান পাহাড়ের ছেলে।

বৃষ্টি বলেন, ‘গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার সময় স্থানীয় এক দোকান থেকে সুমনকে ধরে নিয়ে যায়। এতদিন খোঁজাখুঁজির পরও স্বামীর কোনো সন্ধান পাইনি। আজ সকালে জানতে পারি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আমার স্বামীর (সুমন) মৃত্যু হয়েছে।  আমাদের সংসারে দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।’

শরীয়তপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সুমন পাহাড় নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পালং ইউনিয়নের ছয়গাঁও সড়কের পাশে শুকুর তালুকদারের মেহগনি বাগানে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন সুমন পাহাড়।

পুলিশের দাবি, নিহত সুমন মাদক ব্যবসায়ী। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা, গাঁজা, ককটেল ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) আজাহার আলী জানান, উপজেলার পালং ইউনিয়নে ছয়গাঁও সড়কের পাশে শুকুর তালুকদারের মেহগনি বাগানে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে মাদক ভাগবাটোয়ারা করছে এমন গোপন সংবাদ আসে।

এর ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশ ও পালং মডেল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। ১৫ মিনিট গোলাগুলির পর মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একজনের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। 

লাশটি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী সুমন পাহাড়ের বলে স্থানীয়রা চিহ্নিত করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য শামসুজ্জামান ও জিয়াউর রহমান আহত হন। নিহত সুমন পাহাড়ের পরিহিত প্যান্টের ডান পকেট থেকে ৫১ পিস ইয়াবা ও ঘটনাস্থল তল্লাশি করে এক কেজি গাঁজা, ৬টি ককটেল এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।  

পালং মডেল থানা ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সুমন পাহাড় এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। সুমনের বিরুদ্ধে এলাকায় জনমনে আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সুমনের বিরুদ্ধে মাদক ও চাঁদাবাজিসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।