রাজশাহীতে সাবরেজিস্ট্রারের স্বেচ্ছাচারিতায় হাজারো মানুষের ভোগান্তি

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রারের স্বেচ্ছাচারিতায় চরম ভোগান্তি হলো হাজারো মানুষের। সাবরেজিস্ট্রারের অপেক্ষায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিস প্রাঙ্গণে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিফল মনোরথে ফিরে গেলেন জমি কেনাবেচার ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট লোকজন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে মঙ্গলবার অফিস করবেন বলে আগাম জানিয়েছিলেন মোহনপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার এসএম আব্দুল্লাহ বিন শফিক। এদিন তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ছুটিও নেননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিনভর সরকারি বাসায় থেকেও অফিসে যাননি।

ঘটনার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মোহনপুর উপজেলা দলিল লেখক সমিতি। বিষয়টি রাজশাহী-৩ (মোহনপুর-পবা) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের কানেও গেছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  ঈদের ছুটির পর প্রথম অফিস করবেন বলে সাবরেজিস্ট্রার আগাম ঘোষণা দেয়ায় জমির ক্রেতা-বিক্রেতা ও দলিল লেখকরা ট্রেজারিতে সরকারি রাজস্ব জমা দিয়ে ৬৬টি দলিল তৈরি করে রাখেন। সাবরেজিস্ট্রার এসব দলিল দেখে অনুমোদন ও স্বাক্ষর করবেন বলে কথা ছিল।  সেই হিসাবে এফিডেভিট বাবদ প্রতি দলিলে ৩০০ টাকা করে মোট ১৯ হাজার ৮০০ টাকা সরকারি রাজস্ব খাতে চালানের মাধ্যমে জমা করা হয়।

এদিকে সাবরেজিস্ট্রার অফিসে আসবেন বলে কয়েকশ ক্রেতা-বিক্রেতা ও শতাধিক দলিল লেখকসহ দাতাগ্রহীতাদের আত্মীয়স্বজন মিলে সহস্রাধিক মানুষ দিনভর সাবরেজিস্ট্রারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন সেই সকাল থেকে। কিন্তু আসবেন আসবেন বলে বিকেল সাড়ে ৫টায় সাবরেজিস্ট্রার জানিয়ে দেন তিনি আর অফিসে আসতে পারবেন না।

ফলে জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দিনভর অপেক্ষার পর বাড়ি ফিরতে ফিরতে তাদের অনেকেই রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে ফোন করে তাদের অভিযোগ জানান।

মোহনপুরের ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের অশীতিপর বৃদ্ধা (৯০) রহমতুল্লাহ জানান, তিনি জরুরি চিকিৎসার জন্য ভিটেবাড়ির একটি অংশ বিক্রির জন্য এসেছিলেন কিন্তু সাবরেজিস্ট্রার না আসায় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে।

এদিকে মোহনপুর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মাইনুল আহসান হাবীব জানান সাবরেজিস্ট্রারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হাজারো মানুষের ভোগান্তি হয়েছে। জেলা রেজিস্ট্রারকে এ ব্যাপারে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ বলেন, মোহনপুরের সাবরেজিস্ট্রার কোনো ছুটি নেননি। ছুটি না নিয়ে অফিস না করাটা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল ও একধরনের অসদাচরণ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বলেন, সেবাগ্রহীতা হাজারো মানুষ দিনভর অপেক্ষার পর শূন্য হাতে ফিরে গেলেন-এটা অবশ্যই সাবরেজিস্ট্রারকে জবাবদিহি করতে হবে। সেবাপ্রার্থী মানুষের এই ভোগান্তির বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানান তিনি।