টাঙ্গাইলে ফারুক হত্যা মামলায় এমপি রানার জামিন নামঞ্জুর

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলে আটককৃতরা

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন আবেদন বুধবার নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

এদিকে এমপি রানার মুক্তির দাবিতে তার সমর্থকরা মিছিল নিয়ে আদালত এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় গুলিসহ পিস্তল, দেশীয় অস্ত্রসহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আদালত সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাকসুদা খানের আদালতে গত বুধবার জামিনের আবেদন করেন এমপি রানার আইনজীবীরা। আদালত ৮ আগস্ট জামিন আবেদনের শুনানি শেষে ৫ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন জামিনের বিষয়ে আদেশ দেয়ার কথা জানান।

আদালতের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কাশিমপুর কারাগার থেকে এমপি রানাকে টাঙ্গাইল আদালতে আনা হয়। সকাল ১১টায় প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফারুক হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। এ মামলার সাক্ষী ফারুক হোসেন সনির সাক্ষ্য গ্রহণের কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত থাকায় তা হয়নি।

পরে এমপি রানার আইনজীবী আবদুল বাকী মিয়া ও ফায়জুর রহমান জামিনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তারা আদালতকে জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে এমপি রানা কারাগারে আছেন। তিনি জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য। কারাগারে থাকায় তার নিজ এলাকা টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া তার শারীরিক অবস্থাও ভাল নয়।

এসব কারণে জামিন চেয়ে আইনজীবীরা বলেন, জামিন মঞ্জুর করা হলে মুক্তি পেয়ে তার পালিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এ সময় অনুমতি নিয়ে এমপি রানা বলেন, তিনি ফারুক হত্যার সঙ্গে জড়িত নন। পুলিশ এই মামলায় গ্রেফতারকৃত রাজা ও মোহাম্মদ আলীকে নির্যাতন করে তাকে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত করে জবানবন্দি আদায় করেছেন। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার পর দীর্ঘদিন কারাগারে আছেন। যে কোনো শর্তে তিনি জামিন প্রার্থনা করেন।

জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান এবং বাদী পক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম। তারা আদালতকে জানান, এই মামলায় দুইজন আসামি এবং তিনজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডে এমপি আমানুর রহমান খান রানার প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার কথা উঠে এসেছে। এছাড়াও এমপি রানার বিরুদ্ধে আরও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে। ফারুক হত্যা মামলাটি এখন সাক্ষগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি জামিন পেলে সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাতে পারে। এতে সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে।

পরে বিকালে আদালত আমানুর রহমান খান রানার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ দিয়েছেন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর।

এদিকে এমপি রানার আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে বুধবার আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এমপি রানা ও তার ভাইদের বিচারের দাবিতে আদালতের দক্ষিনে লেকের পাড়ে অবস্থান নেয়।

বেলা ১১টার জেলা সদর গেইট এলাকা দিয়ে রানার সমর্থকরা আদালত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। তারা পুলিশি বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মিছিলকারীদের মধ্য থেকে রানার সমর্থক রাইসুল ইসলাম রাব্বি এবং মাজাহার হোসেন তমাল নামক দুই যুবককে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলিসহ আটক করে। এছাড়াও আরও ৬ জনকে চাইনিজ কুড়াল, হাঁতুড়ি, রড, লোহার পাইপসহ আটক করা হয়।

দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, মিছিলকারীরা নাশকতা করার চেষ্টা করছিল। পুলিশ সতর্ক থাকায় তা করতে পারেনি। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা যা করা দরকার তা করা হবে।

আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর টাঙ্গাইল-(ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই আদালতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ আছেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে এই হত্যায় এমপি রানা ও তার ভাইদের জাড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় রানা ছাড়াও তার ৩ ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জন আসামি রয়েছে।

গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter